
ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ নিয়ে লেখার জন্য আমাকে অনেকদিন ধরেই অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রথমে আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারি নাই। কারণ, আমার জীবনের সময়টা সেই ২০১৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারিতে এসেই থমকে যায়। এরপরে যে আমার একটানা দীর্ঘ ১০ বছর ৫ মাস কারাভোগ হয়েছে, সেই কারাগারের বাহিরের কোনো স্মৃতি আমার মনে নাই। কারণ, দীর্ঘ কারাবাস আপনার জীবনের সময়কে থামিয়ে দেয়। আর জেলখানার ভিতরে মেয়ে মানুষ পাওয়া যায় না। সেখানে সমপ্রেম চলে। তাই ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ সম্পর্কে আমি প্রথমে গতানুগতিক হিন্দু-মুসলিম প্রেমকেই ভাবি, কিন্তু পরে আমি বুঝতে পারলাম, ব্যাপারটা আসলে আরো জটিল। এটা মানব মনের স্বতঃস্ফূর্ত ভিন্ন ধর্মের কারো প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং এটা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় লিঙ্গের মানুষের সাথে সারা জীবনের জন্য প্রতারণা করা।
হিন্দু-মুসলিম প্রেম বলতে আমি বুঝতাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ” দৃষ্টি প্রদীপ ” উপন্যাসের মালতি নামক কোন বৈষ্ণব কন্যার প্রেমে কোনো মুসলিম ছেলের পতিত হওয়া। আমাদের সময়ে হিন্দু-মুসলিম প্রেম বলতে বুঝাত কোনো সুদর্শন হিন্দু কন্যার প্রতি কোনো মুসলিম ছেলের একটা তীব্র আকর্ষণ বোধ হওয়া।
এখন যেমন ইসকন কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে প্রচুর সংখ্যক হিন্দু ছেলে মুসলিম মেয়ের সাথে প্রেমের অভিনয় করে চলছে, আমাদের সময় সেটা কল্পনাও করা যেত না। আমাদের সময়ে কোনো হিন্দু ছেলে কোনো মুসলিম মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিবে, এই সাহস তার স্বপ্নেও আসে নাই। কিন্তু দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে।

মেয়েদের মন সাধারণত দুর্বল হয়। কোনো ছেলে সে যেই ধর্মেরই হোক, সেই মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ফলো করলে, মেয়েটার প্রতি দীর্ঘ সময় ধরে ভালোবাসা দেখালে, সাধারণত মেয়েটা সেই ছেলের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। আর যদি ঐ ছেলে-মেয়ে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে, তাহলে তো ব্যাপারটা মৃত্যু তুল্য। কারণ একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুবাদে ঐ ছেলে খুব সহজেই সেই মেয়ের প্রতি তার অনুরাগ প্রকাশ করার সুযোগ পায়। আমি ইসকন কর্তৃক ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপের যত কাহিনী শুনেছি, এর বেশিরভাগই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক।

গত রমযান মাসে হিন্দু দেবী কালি সংক্রান্ত আমার একটা ফটোকার্ডের কারণে কলকাতা-আসাম যখন উত্তাল, সেই সময় অপার বাংলার অনেক হিন্দু সম্প্রদায়িক নেতা আমাকে ফোন করতো। আমি তখন উনাদের কাছে ইসকন কর্তৃক ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপের ব্যাপারে অভিযোগ করি। তখন উনারা আমাকে বলে, “আমাদের সম্প্রদায়ের শত শত হিন্দু মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না, সেখানে আমাদের কি ঠেকা পড়েছে মুসলমান মেয়েদের পেছনে ঘোরা ? ”
ব্যাপারটা যদি এমন হতো, হিন্দু ছেলেরা মুসলমান মেয়েদের মন পাওয়ার পর তাদের সাথে ঘর-সংসার করছে, তাহলে তো সেই ব্যাপারটার একটা ব্যাখ্যা দেওয়া যেত। কিন্তু ঐ হিন্দু ছেলে তো ঐ মুসলিম মেয়েকে নষ্ট করার জন্য তার পিছে ঘুরছে। তার তো তার সাথে সংসার করার কোনো ইচ্ছাই নেই। ইসকন ঐ মুসলিম মেয়ের গর্ভে তার বীজ রেখে চলে যাবে।

যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভিতরেই এত সুদর্শন কন্যা আছে বিশেষ করে রায় সাহা পরিবারের ভিতরে, সেখানে হিন্দু ছেলেরা হঠাৎ করে মুসলিম মেয়েদের প্রতি এত দুর্বল হল কেন ব্যাপারটা তো আসলেই রহস্যজনক। বিশেষ করে আমি উচ্চবর্ণের অনেক হিন্দু মেয়েকে দেখেছি যাদের পায়ের নখ থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত সুন্দর।
আপনি হয়তো এখন বলতে পারেন, মেয়েদের মন দূর্বল হয়, মেয়েদের আবেগটা বেশী। কিন্তু আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা মানুষকে আবেগ দিয়েছেন, আবার আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দিয়েছেন। যেখানে মানুষ সন্তান হারানোর শোক সহ্য করতে পারে, সেখানে আবেগকে অগ্রাহ্য করা কোনো কঠিন কিছু না। আর এখানে প্রশ্নটা আবেগের না, ভবিষ্যতে নিরাপত্তার। যেখানে একই ধর্মের ভিতরে বিয়ে হবার পরেও কত সমস্যা দেখা দেয়, আর সেখানে ভিন্ন ধর্মের মাঝে বিয়ে হওয়ার ব্যাপারটা তো আসলেই জটিল। মানব জীবনে জটিলতা যত কম আসবে, ততই মঙ্গল।
মুর্শিদাবাদের একজন উচ্চ শিক্ষিত মুসলিম নারী আমাকে জানিয়েছে RSS পশ্চিমবঙ্গের বহু মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। এরপর কিছুদিন পর হয় সে হয় ঐ মুসলিম মেয়েকে হত্যা করে, না হয় তার গর্ভে নিজের বীজ রেখে চলে যায়। বিজেপি শাসিত ভারতে কোনো মুসলিম নিহত হলে থানায় একটা FIR ও দায়ের হয় না। ভারতে মুসলিমের চেয়ে এখন গরুর দাম বেশী।
মেয়েদের মন আমাদের হাতে নেই। জনে জনে প্রত্যেক মুসলিম মেয়ের কাছে গিয়ে হিন্দু ছেলেদের এইসব দূরভিসন্ধির ব্যাপারে সতর্কও আমরা করতে পারব না। আমাদের মহান শরীয়ত এটা support ও করে না। এক দাওয়াত দিতে গিয়ে আরেক দাওয়াতে পরার দরকার নেই। সেইজন্য সবচেয়ে উত্তম হল ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি তোলা। অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যার পর ইসকনের ভারতীয় অফিসগুলো কে মাটিতে মিশিয়ে দিলে আমাকে এখন এই Status টা লিখতে হত না।

আপনি হয়তো এখন বলতে পারেন, তাহলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে আমরা কিভাবে দাওয়াত দেবো ? এই ব্যাপারে ভারতের প্রখ্যাত দায়ী মাওলানা কলিম সিদ্দিকীর ফতোয়া হলো—হিন্দু স্বামী-স্ত্রী বা পুরো হিন্দু পরিবারকে একসাথে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করা। কারণ, শুধু স্ত্রীকে বা স্বামীকে মুসলমান বানালে সংসারে অনেক ফেতনার উদ্ভব হয়। হিন্দু ভাইবোনদেরকে কিভাবে দাওয়া করবেন এই ব্যাপারে মাওলানা কলিম সিদ্দীকির একটা বিখ্যাত বই হল – ” আপ কি আমানত/আপনার সমীপে আপনার আমানত। ” আপনার সমীপে আপনার আমানত বইটার PDF এখানে পাবেন –