
জেলা পুলিশ লাইন বা থানা পুলিশ এদের কিছু রুটিন মাফিক কাজ আছে। যেমন, কোর্টে আসামিদের কে আনা-নেওয়া করা, নতুন মামলার রিমান্ড শুনানি, আসামিদের কে এক জেল থেকে আরেক জেলে চালান নিয়ে যাওয়া প্রভৃতি। আর থানার SI দারোগাদের তো কাজের অভাব নেই। কোনো এলাকায় খুনখারাবি, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড হলেই থানার পুলিশকে সেই এলাকায় দৌড়িয়ে যেতে হয়। তাদের খালি কাজ আর কাজ। লোকাল থানা পুলিশ বা পুলিশ লাইনের পুলিশদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
কিন্তু শেখ হাসিনার ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীর একটি বিশাল অংশ কাজবিহীন Duty করেছে। তাদের আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো Duty ই ছিল না। পুলিশের ডিউটি বলতে যা বোঝায় কোনো এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে সেখানে পৌঁছানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা দমন করা প্রভৃতি। তবে সেই বিশেষ পুলিশ বাহিনীর একটি সুনির্দিষ্ট কাজ ছিল ; তা হল সারাদেশের isLamist দের কে ধরে ধরে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা দেওয়া। আর এই কাজটা তারা খুব ভালোভাবেই করত।
![]()
শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পশ্চিমাদের সবসময় দেখানোর চেষ্টা করত, ” বাংলাদেশের সব জনগণ সন্ত্রাসবাদী মনোভাবসম্পন্ন। আপনারা যদি আমাকে ক্ষমতায় না রাখেন, তাহলে পুরো বাংলাদেশ Al-Qaeda, IS এ ভরে যাবে। তাই সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য আপনারা আমাকে ক্ষমতায় রাখুন।”
শেখ হাসিনার এই Myth বাস্তবায়নের জন্য কত ফ্যামিলি যে ধ্বংস হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এমনও দেখা গেছে, মিথ্যা জঙ্গি ধরার নাম করে পুলিশ প্রশাসন পুরো পরিবারকেই জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। CTTC, ATU দানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। শুধু CTTC, ATU এর কথা বললে ভুল হবে। দেশের RAB, DB, সেনাবাহিনীর অনেক Unit ই শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেশের নিরীহ লোকদের ধরে ধরে জঙ্গি বানানো ছিল তাদের রুটিনমাফিক কাজ।
আমার এখনো মনে আছে, ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা যখন CTTC, ATU এইসব অথর্ব Unit তৈরি করতে চাচ্ছিল, তখন সেই সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত পুলিশের এইসব বাকোয়াজ Unit তৈরির জন্য অর্থ ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। কারণ, এইসব পুলিশ Unit এর কাজ বলতে যা বোঝায়, সেই টাইপ কোনো কাজই তো বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের কোনো বিভাগ কি নিজেকে আলাদা দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে ? না দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে ? ভারতে যেরকম মাওবাদী গেরিলা আছে, উলফা আছে কিন্তু বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণ কখনোই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল না।
যদিও আপনি বলতে পারেন, ২০১৬ সালে Holy Artisan হামলা, ২০১৫/১৬ সালে সিরিজ ব্লগার হত্যাকাণ্ড হওয়ার কারণে দেশে এইসব বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনী তৈরি করার দরকার ছিল। একটা দেশে এই রকম টুকটাক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সারাদেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে, দেশের সব মানুষ IS এর হাতে বাইয়াত দিছে ; এইরকম প্রচারণা কোনো দেশের নীতি হতে পারে না। জঙ্গি জুজুর ভয় দেখিয়ে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্যই শেখ হাসিনা পুরো দেশের জনগণকে বিদেশিদের চোখে সন্ত্রাসবাদী বানিয়েছে।

দুই দিন পরপর পুলিশের এইসব বিশেষায়িত Unit, America সফর করত, মিথ্যা সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশিক্ষণ নিতে। এমনকি কারা অধিদপ্তরের IG Prison, জেল সুপাররাও আমাদের কারাগারের ভিতরে অনেক militants আছে ; “আমরা তাদেরকে খুব নজরদারির মধ্যে রাখি, আমাদেরও Training দরকার ” এই কথা বলে তারা FBI এর সদর দপ্তর পর্যন্ত ঘুরে এসেছে। পুরো বাহিনী যেন পাগল হয়ে গিয়েছিল কীভাবে দেশের নিরীহ জনগণকে পুলিশের খাতায় “নাম লিখাতে” পারবে।
এই পুলিশ কর্মকর্তারা AC থেকে ADC হওয়ার জন্য, ADC থেকে DC হওয়ার জন্য ; কত মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। সামান্য একটি প্রমোশন পাওয়ার জন্য পুলিশ পুরো পরিবারকে militant বানিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাদের ওপর আল্লাহর লানত।
তাদের এইসব জঙ্গি নাটকের শিকার অনেক নিরীহ মানুষ এখনো জেল খাটছে, কোর্টে এখনো নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে। আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। শেখ হাসিনার সাজানো কোর্ট আমাকে ২ টি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মোট ৩৯ বছরের সাজা দিয়েছে। আরও ৩ টি মামলায় জড়িয়ে আমাকে চার্জশিট দিয়েছে। এখনো দুটি মামলার ঘানি আমি টানছি। জানি না কবে এইসব মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা থেকে আমি মুক্তি পাব।