পর্যালোচনা

আফগান-বাংলার ভুরাজনীতি নিয়ে একটা তাত্ত্বিক আলোচনা

আফগানিস্তানের জিহাদ কি বাংলাদেশে চলবে ?

বাংলাদেশের জিহাদী দলের কার্যক্রম নিয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছে। isLamist দের একটা অংশ সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে সরকার উৎখাত করে বাংলাদেশকে একটা ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চায়। কিন্তু দেশের মূলধারার আলেমদের সাপোর্ট তারা পাচ্ছে না। দেশের মূলধারার আলেমেরা কেন সশস্ত্র জিহাদের পথে আসছে না, এটা নিয়ে অনেক দিন ধরেই তারা অভিযোগ করে আসছে। জিহাদের কথা বললেই প্রথম যে দেশটার কথা মনে পড়ে, সেটা হচ্ছে আফগানিস্তান।

আফগানিস্তান দেশটা সেই ৮০ এর দশক থেকেই সশস্ত্র জিহাদের পথ চলছে। আফগানিস্তানের সেই জিহাদ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই, এর কারণটা আসলে কী ? আমরা জানি, ৮০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার সেনাবাহিনী আফগানিস্তান দেশটা জোরপূর্বক দখল করে বিপুলসংখ্যক আলেমকে শহীদ করে। পুরো মুসলিম বিশ্ব এবং খোদ আমেরিকা সেই জিহাদ কে Support করে, কারণ রাশিয়ার সেনাবাহিনী ছিল কাফের এবং দখলদার।

একটা কাফের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই ৮০ এর দশকে আফগান জিহাদ নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিধা নেই।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরে মার্কিন সেনাবাহিনী যখন তালেবান শাসন উৎখাত করে, তখন তালেবানদের জিহাদ নিয়েও কারও মনে কোনো প্রশ্ন ছিল না। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী বিতাড়িত করতেই হবে এই ব্যাপারে আমরা সবাই একমত ছিলাম। কিন্তু প্রশ্ন আসে তখনই যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তো একটা মুসলিম সেনাবাহিনী, আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য বহিরাগতও না। তাহলে একটি দেশীয় মুসলিম সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ-সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েলগুলো প্রয়োগ করা কতটুকু ইসলাম সম্মত? আর কবীরা গুনাহ করলে কেউ কাফের হয় না। যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি গুনাহর মাঝে আছে তবে এক্ষেত্রে বেশী দায় বর্তাবে দেশের শাসক গোষ্ঠীর উপরে।

 

আর আমরা জানি জিহাদ মানে হচ্ছে ক্বিতাল, অর্থাৎ কাউকে হত্যা করা অথবা পরাজিত সৈনিককে বন্দি করে তাকে দাস বানানো প্রভৃতি। কিন্তু একজন মুসলিমকে তো কখনোই দাস বানানো যাবে না, কারণ দাসদাসী সংক্রান্ত মাসলা গুলো কুফরির সাথে সংযুক্ত। কোনো মুসলমানকে কখনোই দাসে রূপান্তর করা যাবে না।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কোনো আলেমকে যদি আপনি কাশ্মীরের জিহাদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করেন, তাহলে উনারা এক বাক্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাশ্মীরের মুসলমানদের জিহাদকে সাপোর্ট করবে। কারণ ভারতীয় সেনাবাহিনী হচ্ছে একটি সুস্পষ্ট কাফের এবং দখলদার বাহিনী।

আবার ভবিষ্যতে যদি কখনো ভারতের সেনাবাহিনী বা বার্মিজ সেনাবাহিনী বাংলাদেশকে আক্রমণ করে, তখন বাংলাদেশের সব আলেম একযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনী অথবা বার্মিজ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে আকবরের ফতোয়া দিবে। জিহাদে আকবর হচ্ছে সেই জিহাদ, যেই জিহাদের ঘোষণা হলে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ঘরে বসে থাকতে পারবে না ; সবাইকে বাধ্যতামূলক ভাবে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু এখন কথা হল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, BDR এরা আসলে কতটুকু মুসলমান না শুধু মুসলিম নামধারী ? কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরের মুসলমানদের সাথে যেই রকম আচরণ করে, শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে আগত DGFI, Rab এ কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা, পুলিশ, CTTC এর কর্মকর্তারা আমাদের সাথে সেই রকমই আচরণ করেছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টিটিপির  একটা নিস্ফল গৃহযুদ্ধ ছাড়া আর কি। ১০০ বছরেও TTP সফল হবে না। কারণ একটা মিলিশিয়া দল বৃহত্তর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।

 

পার্বত্য চট্রগ্রামে আজ এতদিন ধরে UPDF, জনসংহতি সমিতির অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। স্বাধীনতা পাওয়া তো দূরের কথা, আজ পর্যন্ত স্বায়ত্ত্বশাসনের টিকিটাও দেখে নি পার্বত্য চট্রগ্রামবাসী। শুধু একটু চাঁদাবাজির সুযোগ পেয়েছে পার্বত্য চট্রগ্রামের কিছু সন্ত্রাসী। ঠিক তেমনি কাশ্মীরবাসীর এতদিনের জিহাদও কোন কার্যকরী সমাধান আনে নি। শুধু পাকিস্তান সরকার যখন কাশ্মীর জিহাদে সরাসরী অংশগ্রহন করে তখনই কাশ্মীরের কিছু ভূমি উদ্ধার হয়। আর সেই কারণেই মনে হয় উপমহাদেশের মূল্ধারার আলেমরা হোক দেওবন্দি বা সালাফী উনারা সবাই দাওয়াত, তাবলীগ আর ইলমী আন্দোলনেই মনোনিবেশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button