কোর্ট কাচারি

মামলা হচ্ছে পুলিশের কাছে just একটা খেলা

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলা

শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে মোট ৫ টি মামলা দিয়েছিল। এর মাঝে একটি মামলা ছিল সিলেটের ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলা। যদিও ব্লগার অনন্ত বিজয় যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ২০১৫ সালের ২৯ মে, তখন আমি কাশিমপুর কারাগারে অন্তরীণ ছিলাম। এরপরেও সিআইডি (CID) আমাকে সেই মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি করেছে।

আমাকে সিলেটের ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা মামলায় মোট ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ডে সিআইডি (CID) বারবার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি অনন্ত বিজয়কে চিনি কিনা। আমি সিআইডির (CID) একই প্রশ্নের জবাবে বারবার বলেছিলাম, অনন্ত বিজয় যে দেখতে কোলা ব্যাঙের ন্যায় ; আমি তাকে চিনিও না, তার নামও কখনো শুনি নাই।

তখন সিআইডি (CID) এর ইন্সপেক্টররা আমাকে জিজ্ঞেস করে, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস মুক্তমনা ব্লগের Co-Admin ছিল, সেই হিসাবে আপনাকে তো তার চেনার কথা। তখন আমি উত্তর দেই, আমি সারা জীবনে মুক্তমনা ব্লগে ৪/৫ বারের বেশি ঢুকি নাই। মুক্তমনা ব্লগ ছিল একটা ডাস্টবিন ; যখন যেই নাস্তিকের বমি করার ইচ্ছা হতো, তখন সেই নাস্তিক মুক্তমনা ব্লগে যেয়ে বমি করে চলে আসত।

আমি রিমান্ডে সিআইডিকে (CID) একটা কথাই বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি – ” উন্নত বিশ্বে Asylum পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই দেশের হিন্দু ছেলেপুলেরা পাগল হয়ে গিয়েছিল। গণহারে তারা অনলাইনে আল্লাহর রাসূলকে গালিগালাজ করত। তো এত ছেলেপুলেকে তো চিনাও সম্ভব না। যারা নিজেরাই নিজেদের দেব-দেবীর ল্যাংটা মূর্তি বানিয়ে পূজা করে, তারা ইউরোপ-আমেরিকায় Asylum পাওয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাসূলকে গালিগালাজ করবে ; এতে আর অবাক হওয়ার কি আছে ? ” অভিজিৎ অনন্ত বিজয় এরা ছিল নরকের কীট ; আল্লাহর রাসূল কে গালিগালাজ করাই ছিল তাদের পেশা। দু:খজনক হলেও সত্য বাংলার হিন্দু সমাজ এই অভিজিৎ অনন্ত বিজয় কে তাদের গৃহদেবতার আসনে বসিয়েছে।

যাই হোক, CID কে এত কিছু বোঝানোর পরেও CID ঠিকই সিলেটের ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা মামলায় আমাকে সম্পূরক চার্জশিটে অভিযুক্ত করে। কিন্তু এটা তো অসম্ভব যে ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যাকাণ্ডে আমার কোনো ভূমিকা আছে। কারণ অনন্ত বিজয় হত্যার দিন ২০১৫ সালের ২৯ মে আমি কাশিমপুর কারাগারে অন্তরীণ ছিলাম। তবে সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে আপনি জেলে বসেও একটি হত্যা মামলার আসামি হতে পারবেন।

যদিও আমার বিরুদ্ধে CID এর অভিযোগ ছিল আমার লেখালিখির মাধ্যমে দেশে সিরিজ ব্লগার হত্যাকাণ্ডের একটি প্লাটফর্ম তৈরী হয়েছে।

আসলে মামলা হচ্ছে পুলিশের কাছে just একটা খেলা। একটা সাদা কাগজে আপনার স্থায়ী নাম ঠিকানা, এরপর ঐ সাদা কাগজে পুলিশ কয়েকটা ধারা বসিয়ে আপনাকে কোর্টে ফরওয়ার্ডিং করে দিবে। এরপর সেটাই ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ারেন্ট আকারে কাস্টডি হিসাবে আপনাকে জেলে প্রেরনের আদেশ করবে। এখন আপনার লোকজন থাকলে আপনি জামিনে বের হন না হয় জেলের ভিতরেই পচে মরেন। বাংলাদেশের CRPC ( Criminal procedure code) হচ্ছে দেশের স্বাধীন একজন নাগরিক কে ক্রীতদাস বানানোর খুব সুন্দর একটা System !

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button