কমিউনিজমের মোহভঙ্গ ও ভারতীয় গরুর মাংস
পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্রের পতনের মতই ভারতেও হিন্দুত্ত্ববাদের পতন হবে ইনশাআল্লাহ

ইউরোপ মহাদেশের পূর্ব ইউরোপ যেটাকে The Eastern Bloc বলে সেখানে দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট শাসন ছিল। রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, আলবেনিয়ার অধিবাসীরা ইউরোপের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও খাবারের জন্য তাদেরকে রেশনের লাইনে দাঁড়াতে হতো। ইউরোপের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ৫০ বছরের কমিউনিজম শাসনের কারণে পূর্ব ইউরোপের এই দেশগুলোর মানুষদের কে দারিদ্র্যর সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে। কমিউনিস্ট শাসনের কারনে ইউরোপের এই Eastern Bloc স্বচ্ছলতার কোন ছোয়াই পাই নি। পূর্ব ইউরোপের বুদ্ধিজীবীরা আফসোস করে বলে, “আমাদের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কমিউনিজমের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়েছিল।” আপনি বাথরুম জিনিসটাকে যেমন ভাবে ঘৃণা করেন, পূর্ব ইউরোপের বাসিন্দারা কমিউনিজমকে বর্তমানে ঠিক সেইভাবেই ঘৃণা করে।
গরু নিয়ে ভারতে কত ঝামেলা হচ্ছে, সেটা তো আমরা সবাই জানি। ভবিষ্যতে ভারতে কখনো গণহত্যা হলে, আপনি গরু কে কি দৃষ্টিতে দেখেন সেটা হবে এর একটি মূল অনুঘটক। ভারতে এখন মানুষের চেয়ে গরুর দাম বেশি। আপনি গরুর মাংস খান কিনা, আপনার বাসায় গরুর মাংস আছে কিনা, এর উপর নির্ভর করছে আপনার জীবন-মৃত্যু। বাসায় গরুর মাংস রাখার অপরাধে জারজ হিন্দুরা আপনাকে পিটিয়ে মারতে কোনো দ্বিধা বোধ করবে না।
হিন্দুরা যে শুধু গরুর মাংস খায় না, তা-ই না। হিন্দুরা ছাগল, ভেড়া, মহিষ—এগুলোও তেমন একটা খায় না। হিন্দুদের মাঝে আমিষ বলতে বোঝায় শুধু মুরগীর মাংস, যদিও ইসকন থেকে শুরু করে প্রচুর সংখ্যক হিন্দু বর্তমানে নিরামিষাশী। ইসকনরা তো ডিমটাও পর্যন্ত খায় না। হিন্দু মেয়েদের মাঝে আবার যারা বিধবা হয়, তাদের জন্য তো মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এইসব মনুসংহিতার আমল থেকেই নিষিদ্ধ। পাছে গর্ভপাত করতে করতে বাড়ির পাশের পুকুর না আবার ভরে যায় !
উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে পরে আজ ভারতের Livestock ব্যবসা লাটে উঠেছে। ভারতীয়দের ভাতের পাতে এখন মাংস নেই বললেই চলে। এইভাবে চলতে থাকলে ভারতীয়রা সব নিবীর্য, কংকালসারে পরিনত হবে। ৯০ এর দশকে পূর্ব ইউরোপের বাসিন্দারা যেইভাবে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল ঠিক সেইভাবে আজ প্রত্যেক ভারতীয় এর উচিত মোদির এইসব উদ্ভট পুরাণীয় মতবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। তা না হলে ভবিষ্যৎ ভারতীয় প্রজন্ম হবে সব নিবীর্য, কংকালষাট। এইভাবে আমিষ বর্জন চলতে থাকলে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অল্প অসুখ বিসুখেই সব স্বর্গের মুখ দেখবে।
অনেকেই ভাবতে পারেন আমরা মুসলমানরা শুকর কে ঘৃনা করি বলে আমরা শূকরের মাংস খাই না। আচ্ছা মুসলমানরা তো হাতি, ঘোড়া, গাধার মাংসও খায় না।

আবার মুসলমানরা শুকর না খেলেও যারা শুকর খায় আমরা মুসলমানরা তাদের কে ঘৃণা করি না। আমরা মুসলমানরা শুধু শুকর না শুকর কে যারা লালন পালন করে তাদেরকেও ঘৃণা করি না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা জগৎ এর প্রত্যেক টা প্রাণীকেই একটি বিশেষ উদ্দ্যেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। শুকর, গুইসাপ, বনরুই সবারই প্রকৃতিতে বিশেষ বিশেষ কাজ আছে। সিলেট, চট্রগ্রাম এইসব বড় বড় শহরে যারা শুকর পালে তারা তাদের শুকর পাল গভীর রাতে শহরের রাজপথে হাটাতে নিয়ে বের হয়। তখন এই শুকর পাল শহরের রাস্তার সব আবর্জনা খেয়ে শহর কে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে।
খাদ্যের সন্ধানে শুকর মাটির গভীরে কন্দমূল জাতীয় উদ্ভিদ যেমন মিস্টি আলু, গাজর, মানকচু ও ছোট ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী খুঁড়ে বের করে। এই আচরণের ফলে মাটির নিচে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গাছের শিকড় সহজে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। বন্য শুকর বনের পঁচা ফলমূল ও পঁচা লতাপাতা খেয়ে বনের Eco-system টিকিয়ে রাখতে বিরাট বড় ভূমিকা পালন করে।
শুকর, গুইসাপ এগুলো প্রকৃতির জন্য উপকারী কিন্তু মানুষের শরীরের জন্য উপকারী নয়। আর সেইজন্যই বন্যপ্রাণী জাতীয় এই সকল পশুপাখি খাওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম। অর্থ্যাৎ কোন প্রাণী না খাওয়া মানে এই নয় যে আমরা সেই প্রাণীটাকে ঘৃণা করি।

৯০ এর দশকে কমিউনিজমের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের জনগন লেনিন, স্টালিনের মূর্তি ভেঙ্গে মাটিতে নামিয়েছে। সেইদিন বেশী দূরে নয় উগ্র হিন্দুত্ত্ববাদের বিরুদ্ধে ভারতের জনগন ঠিকই বিদ্রোহ করবে। সেইদিন বেশী দূরে নয় ধর্মের নাম করে মানুষকে আমিষ খাওয়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য ভারতের মানুষ শিবমন্দিরেই আমিষ খাওয়ার উৎসব করবে।