ইতিহাস

বাবরি মসজিদ ভাঙার একাল সেকাল

রাম মন্দির ইতিহাস না মিথ ? প্রত্নতত্ত্ব কি বলে ?

 

 

আজ থেকে মাত্র ৫০০ বছর আগে ১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে উনার সেনাপতি মীর বাকী বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন। হিন্দুদের দাবী সেখানে নাকি আগে থেকেই একটা মন্দির ছিল। বাদশাহ বাবর হিন্দুদের মন্দির ভেঙে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। যুক্তির খাতিরে যদি এই কথাটি সত্য বলে ধরেও নেই তাহলে অবশ্যই কোন না কোন ইউরোপীয় বণিক, পরিব্রাজক, ইতিহাসবিদ এই ঘটনাটা উল্লেখ করতেন। যেখানে আল্লাহর রাসূলের পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার সময় চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ্গ সম্রাট হর্ষবর্ধনের সময়ে এই ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন সেখানে মুঘল আমলে যে অনেক ইউরোপীয় বণিক, পরিব্রাজক ভারতবর্ষে এসেছিল এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই।
মুসলমান ঐতিহাসিকরা না স্বজন প্রীতির কারণে এই মন্দির ভাঙ্গার কথাটি লিখল না, হিন্দু ঐতিহাসিকরা না বাদশাহ বাবরের ভয়ে মন্দির ভাঙ্গার ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করল না, কিন্তু খৃষ্টান ঐতিহাসিকদের তো চুপ থাকার কথা না। এত বড় একটা দূর্ঘটনা হিন্দুদের পরম আরাধ্য দেবতা রামের জন্মস্থানে স্থাপিত মন্দির, একজন মুসলিম সেনাপতি ভেঙে গুঁড়িয়ে সেখানে একটি মসজিদ বানিয়ে ফেলবে আর সেটা কোন ইউরোপীয় ঐতিহাসিক উল্লেখ করবে না এটা কোন পাগলও বিশ্বাস করবে না। আর এই জায়গাটি যদি সত্যিই রামের জন্মভূমি হয়ে থাকে তাহলে তো আবহমান কাল ধরেই সেখানে রামলীলা, রামপূজা, রাম সেবা, রাম-সীতার ল্যাংটা মূর্তি বানিয়ে পূজা অর্চনা চলত।

 

 

Ayodhya's Babri Masjid

 

হিন্দুরা আবার নিজ নিজ দেব-দেবীর ল্যাঙটা মূর্তি না বানানো পর্যন্ত ক্ষান্ত হয় না। কোন ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া তো দূরের কথা, কোন পুঁথি, ফোকলার, লোককথাতেও এটা পাওয়া যায় না বাবরি মসজিদের ওই জায়গায় কখনো রামপূজা হয়েছে, আর রাম মন্দির সেটা তো অনেক পরের কথা।

 

ভারতের কোন মন্দিরের সাথেই বাবরি মসজিদের নির্মাণশৈলীর মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ এই মসজিদ মুসলমানরা করেছে নিজেদের ওয়াকাফকৃত জায়গায়। ইসলামী শরীয়ত মতে ওয়াকফকৃত জমি ছাড়া কোন মসজিদ করলে সেটা মসজিদের মর্যাদা পাবে না। মোঘল আমলে  সারা ভারত ছিল জনশূন‍্য জঙ্গলময় ও তৃনভূনিতে আচ্ছাদিত, তখন সারা ভারতের লোকসংখ্যা ১ কোটি ছিল কিনা সন্দেহ। এটা তো একটা গালগল্প ছাড়া আর কিছু না মোঘলরা মসজিদ বানানোর জন্য কোন খালি জায়গা খুঁজে পায়নি হিন্দুদের এক মন্দির ছাড়া। বাবরি মসজিদের আগে উত্তর প্রদেশের জৌনপুর এলাকায় আতালা মসজিদ নির্মান হয়। বাবরি মসজিদের নকশা মূলত দিল্লির সুলতানি আমলের স্থাপিত আতালা মসজিদের নকশার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, কোন মন্দিরের সাথে নয়।

 

বাবরি মসজিদের একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য ছিল এর ধ্বনিপ্রবাহ বা অ্যাকোস্টিকস Acoustics । ইমাম সাহেব মিহরাব থেকে ফিসফিস করে কিছু বললে তা ৬০ মিটার দূর থেকেও স্পষ্টভাবে শোনা যেত, যা দেয়ালের বিশেষ গহ্বরের কারণে সম্ভব হয়েছিল।

সূর্য চন্দ্র যেইরকম সত্য এই পৃথিবীতে রাম লক্ষণ বলতে কিছু ছিল না সেটাও এইরকম সত্য। এরপরেও হিন্দুরা যেটা বায়বীয়, যেটার কোন ভিত্তি নেই এদের পূজা করে তাদের সারাজীবন পার করে। তবে হিন্দুদের মাঝেও অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি আছে কিন্তু ধর্মচিন্তার দিক থেকে তারা আজও শিবের লজ্জাস্থান কে অতিক্রম করতে পারল না। হর হর মহাদেব বলে কথা।
যারা ঈশ্বর কে খুঁজে বেরায় গণেশের মোটা পেট, কালীর স্তন, কালীর জিহবা, হনুমানের লাফ, আর শিবের খাড়াদন্ডের মাঝে তারা ধর্মপ্রতিষ্ঠার নামে ব্রিটিশ উত্তরকালে মুসলমানদের মসজিদ ভাঙবে এতে আর অবাক হওয়ার কি আছে।

 

আজকে আমরা যে আনারস, পেঁপে খাই এগুলো কিন্তু কোনটাই ভারতীয় ফল না। সম্রাট বাবর পর্তুগীজদের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ থেকে এই ফলগুলো ভারত বর্ষে নিয়ে আসেন। এই হিন্দু চামারের জাতরা না জানত কোন সভ্যতা না জানত কোন কৃষি কাজ। মুসলমানরা ভারতে আসার পরেই প্রথম কৃষি শুমারি করে, ভারতবর্ষে কি কি জীবজন্তু পশুপাখি আছে তার একটা বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণী বিন্যাস করে। তবে হিন্দু পুরাহিতরা একটা কাজই খুব ভালো করে করতে পারত। আর তা হল মন্দিরের ভিতরে দেবদেবীদের সামনে আসন পেতে বিভিন্ন মুদ্রায় সেবাদাসীদের সাথে সঙ্গম করা। আর এইভাবেই মন্দিরের লম্পট পুরাহিতরা লিপিবদ্ধ করে সেই বিখ্যাত কাম বই বাৎসায়নের কামসূত্র। ভারতের অনেক প্রাচীন মন্দিরের দেয়ালে যেমন খাজুরাহো মন্দির কামলিপ্সু ব্রাক্ষন পুরাহিতরা পুরো কামসূত্র বইটাকেই কামফলকে লিপিবদ্ধ করেছে।

কী কারণে খাজুরাহোর মন্দিরে মৈথুন মূর্তি রাখা হয়েছে জানলে এখানে বার বার যেতে ইচ্ছে করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button