অন্যান্য ধর্ম

বৈদিক যজ্ঞ থেকে নিরীশ্বরবাদ ; মানবতার মুক্তি কোথায় ?

Establishment VS Gautam Buddha

আল্লাহ রাসুলের আগমনের পূর্বে এই ভারতবর্ষে একক সৃষ্টিকর্তা বলতে কোন ধারণাই আমাদের মাঝে ছিল না। সেই সময়ে ভারতে ধর্ম বলতে যা বোঝতো, তা হলো ঐ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মূর্তিপূজা হত এই যা। দেব-দেবীরাই একচেটিয়াভাবে মানুষের সব আরাধনা পেত।

বৈদিক যুগে ধর্ম বলতে যা বোঝাতো, তা হলো বিভিন্ন দেবদেবীর যজ্ঞের নামে আগুনের ভেতর ঘি ঢালা। যজ্ঞে অগ্নির একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। যজ্ঞে অগ্নিকে দেবতাদের মুখ মনে করা হয়, যার মাধ্যমে ঋষিদের আহুতি দেওয়া সামগ্রী নির্দিষ্ট দেবতাদের কাছে পৌঁছায়।

মুনি ঋষিরা প্রথমে যজ্ঞ বেদীতে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করতো, এরপর সেই অগ্নিতে যজ্ঞেশ্বর বিষ্ণু, নারায়ণের নামে খাঁটি গাওয়া ঘি বিসর্জন করত। তাই বৈদিক যুগে ধর্মকে আমরা এক প্রকার খাঁটি গাওয়া ঘি এর অপচয় বলতে পারি।

 

তবে যজ্ঞ বেদীতে সবসময় যে ঘি ঢালা হতো, ব্যাপারটা তা না। মুনি ঋষিরা যেদিন চামুন্ডা দেবী, কালী দেবীর যজ্ঞ করতো, সেইদিন যজ্ঞ বেদীতে তারা মানুষকে বলি দিত। মানুষের তাজা, গরম রক্ত না পাওয়া পর্যন্ত চামুন্ডা দেবী, কালী দেবী প্রসন্ন হতো না।

গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবের পর ধর্ম জিনিসটা আরো জটিল হয়। বুদ্ধের নিরীশ্বরবাদের প্রভাবে বহু ধার্মিক ব্যক্তি নৈরাশ্যবাদী নাস্তিকে পরিণত হয়। নির্বাণ লাভের নাম করে মানুষ লোকালয় ছেড়ে সব বন জঙ্গলে যাওয়া শুরু করে। এজন্যই গহীন অরণ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষু, বৌদ্ধ মঠ (Monastery) এর এত দেখা পাওয়া যায়।

Maitreya

তবে বৌদ্ধ ধর্ম একটা নিরীশ্বরবাদী ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও বৌদ্ধ ধর্মে স্বর্গ নরক এবং অনেক দেবদেবীর ধারণা আছে। বৌদ্ধ ধর্মের মহাজানী ও ব্জ্রযানীরা অনেক দেবদেবীর পূজা করে যেমন মহাকাল, জাম্বালা, ব্জ্রপাণি প্রভৃতি। তবে বৌদ্ধ ধর্মের দেবদেবীরা নির্বান লাভ করতে পারে না এবং তাদের স্থান গৌতম বুদ্ধের নীচে। এদের মাঝে ব্জ্রযানীদের বিশ্বাস হল দেবদেবীদের আরাধনা নয় দেবদেবীদের কে বশ করতে হবে। এই দেবদেবীদের বশ করতে যেয়েই ব্জ্রযানীরা শবসাধনা পর্যন্ত করা শুরু করে। সিকিম, তিব্বত, মঙ্গোলীয়া, ভিয়েতনামের প্যাগোডায় বহু বৌদ্ধ দেবদেবীর দেখা পাওয়া যায়।

ব্যক্তিজীবনে গৌতম বুদ্ধ একজন ভীতু মানুষ ছিলেন। উনি সব সময় Establishment এর সাথে ঝামেলা এড়িয়ে চলতেন। গৌতম বুদ্ধের সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষে পৌত্তলিকতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। গৌতম বুদ্ধ কখনোই মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে কিছু বলেন নাই।

দাস প্রথা, সতীদাহ প্রথা তখন ব্যাপকভাবে ভারত সমাজে প্রচলিত ছিল। অনেক দাস, মালিকের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য মঠে আশ্রয় নিত। গৌতম বুদ্ধ ভূস্বামীদের ভয়ে দাসদেরকে দীক্ষা দিতে নিষেধ করেন। শেষমেষ দাসদের জন্য মঠের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

সেই সময় সুদ প্রথাও ভারতবর্ষের জীবনযাপনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল। কিন্তু সুদ প্রথার বিরুদ্ধেও গৌতম বুদ্ধের কোন বক্তব্য নেই।

 

আল্লাহর রাসূলের আগমনের সময়ে সারা পৃথিবীতে খৃষ্টধর্ম বেশ প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লামের শিক্ষাকে বিকৃত করে তথাকথিত খৃষ্টধর্ম এমন রুপ নিয়েছিল যে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম দুনিয়াতে আসলে নিজের প্রচারিত দ্বীনকে নিজেই চিনতে পারতেন না।

হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম তো সারাজীবন তাওহীদের বাণীই প্রচার করেছেন। কিন্তু

হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লামের পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে ৪র্থ আসমানে চলে যাওয়ার পর সেন্ট পল ও সেন্ট পিটার আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা কে বাদ দিয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কেই ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। তারা গীর্জায় গীর্জায় যীশু খৃষ্ট নামে হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর মিথ্যা ক্রশের মূর্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। যেই সেন্ট পিটার হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর শিক্ষা সবচেয়ে বেশী বিকৃত করেছে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ক্যাথলিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটারই হচ্ছে তাদের প্রথম পোপ

 

আর মুনি-ঋষিদের কথা কি বলবো! মুনি ঋষিরা তো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজে সুদ প্রথা, দাস প্রথা, সতীদাহ প্রথা টিকিয়ে রেখেছেন। সামন্তপ্রভুদের পা চাটা ছাড়া আর আমি মুনি ঋষি আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কোন কাজ দেখি না।

কিন্তু বিপরীতে আমরা আল্লাহর রাসূলের পুরো জীবনটাই দেখি Establishment এর সাথে যুদ্ধরত অবস্থায়। আমাদের নবীজি নব্যুয়ত পাওয়ার সাথে সাথে মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর রাসূল পৌত্তলিকতা কে দমন করতে না পৌত্তলিকতা কে নির্মূল করতে চেয়েছেন। ঠিক তেমনি আরবের কন্যা শিশুকে জীবন্ত প্রোথিত না করতে, সুদকে হারাম ঘোষণা করা, কোন স্বাধীন মানুষকে ক্রীতদাস না বানাতে এবং দাস মুক্তির ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।

এই জন্যই মক্কার কাফেররা আমাদের নবীজিকে নির্যাতন করে, উনার নিজ জন্মভূমি মক্কা থেকে বিতাড়িত করেছে। মদিনায় যাওয়ার পরেও মক্কার কাফেররা বারবার মদিনা আক্রমণ করেছে।

অর্থ্যাৎ আপনি কতটা হক্বের উপর আছেন সেটা বোঝা যায় Establishment এর সাথে আপনার কতটুকু ঝামেলা হচ্ছে। তবে আপনি যদি সবকিছু ছেড়ে জঙ্গলে চলে যান, তাহলে Establishment এর সাথে আপনার আবার কিসের ঝামেলা !

অর্থাৎ গৌতম বুদ্ধের ব্যাপার টা হচ্ছে এরকম আপনি জঙ্গলে চলে যান, আমরা আপনাকে মহামানব বানিয়ে দেবো। আর এইসব জঙ্গলবাসী, ঘি অপচয়কারী, নির্বাণলোভী রা কিনা আজ আসছে আমাদের কে নীতি নৈতিকতা শিখাতে।

[ এরকম আরো তত্ত্বীয় আলোচনা আপনারা খান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত শাফিউর রহমান ফারাবী রচনা সমগ্র বইতে পাবেন ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button