ইসলাম বৈরিতা

মুজিববাদী আমলাদের রোষানলে আমাদের আতাউর রহমান বিক্রমপুরী

 

নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলেও দেশটা আসলে সেই দলটা চালায় না, দেশ চালায় মূলত আমলারা। আমলারাই হচ্ছে দেশের নীতিনির্ধারক। দেশের কখন কী প্রজেক্ট নেওয়া হবে, কোন ডিপার্টমেন্টে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে এগুলো সব আমলারাই নির্ধারণ করে।

 

আমার এই Stattus এ আমলা বলতে আমি এখানে বিসিএস (BCS) প্রশাসন ক্যাডারদেরকেই বোঝাচ্ছি। আপনার চোখের সামনে অনেক সরকারি অফিস থাকলেও একমাত্র ভূমি অফিস, TNO অফিস আর ডিসি অফিস ছাড়া কোথাও আপনি আমলা খুঁজে পাবেন না। অন্যান্য সরকারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা সারাজীবন কর্মকর্তাই থাকেন, উনারা কখনো আমলা হতে পারেন না।

PSC ( পাবলিক সার্ভিস কমিশন ) BCS পরীক্ষার মাধ্যমে অনেকগুলো ক্যাডারে নিয়োগ দেয়। কিন্তু একমাত্র প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া আর কেউই সেইভাবে সচিবালয়ে যেতে পারে না। ধরেন, BCS সমবায় দিয়ে কেউ একজন সমবায় ক্যাডারে যোগদান করল। উনি সর্বোচ্চ সমবায় অধিদপ্তরের একজন যুগ্ম নিবন্ধক (Joint egistrar) হিসেবে পদায়ন পেতে পারেন, তাও চাকুরির শেষ বয়সে। কিন্তু উনি কখনোই সমবায় অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদ নিবন্ধক (Registrar) হতে পারবেন না। সমবায় অধিদপ্তরের এই সর্বোচ্চ পদ নিবন্ধক (Registrar) পদটা প্রশাসন ক্যাডারের কেউ এসে দখল করবে। অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মত।

 

 

দেখা গেছে, একই BCS দিয়ে নিয়োগ পেলেও প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্য ক্যাডারদের আমলা হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকেই যায়। একজন ডাক্তার যত মেধাবীই হোক, উনি কখনোই সচিবালয়ের ভেতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং পাবেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হর্তাকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারের লোকেরাই হয়ে থাকে। আমার এই কথাটা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জন্য নয়, অন্যান্য সব মন্ত্রণালয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

 

অন্য সব ক্যাডারকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের দখলদারিত্বকেই আমলাতন্ত্র (bureaucracy) বলে। বিক্রমপুরী হুজুরকে বারবার ডিটেনশন (detention) দেওয়ায় আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। আমাদের আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ভাইকে কারা বারবার ডিটেনশন (detention) দিচ্ছে ? এই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুজিববাদী আমলারাই আতাউর রহমান বিক্রমপুরী কে ৭৪ এর বিশেষ ক্ষমতা আইনে বারবার ডিটেনশন দিচ্ছে। শেখ মুজিব কবরে চলে গেলেও শেখ মুজিবের মানসপুত্ররা সচিবালয়ে ঠিকই বসে আছে।

 

একটু মনে করে দেখুন সেই ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আপনার পরিচিত কেউ BCS দিয়ে পুলিশ বা প্রশাসন ক্যাডারে ঢুকতে পেরেছে, না পারে নাই। কারা BCS পুলিশ, প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিসে (judicial service) নিয়োগ পাবে সেই লিস্ট গণভবন থেকে সরবরাহ করা হত। পিএসসি (PSC) গণভবনের লিস্ট ছাড়া আর কাউকেই পুলিশ, প্রশাসন, নিম্ন আদালতের সহকারী বিচারক (Asst. Judge) হিসেবে সুপারিশ করত না।

 

এমনও দেখা গেছে, তিন তিনবার BCS দিয়ে ভাইভা (viva) পর্যন্ত টিকে আছে, কিন্তু তিন বারই সে পুলিশ ভেরিফিকেশন (police verification) এ বাদ পড়ে গেছে। DGFI, NSI, SB ডানপন্থী পরিবারের কেউ BCS এ টিকলে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট (negative report) দিয়ে তার পুলিশ ভেরিফিকেশন (police verification) এর বারোটা বাজিয়ে দিতো।

 

অর্থাৎ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ আর হিন্দু ছাড়া আর কেউই BCS দিয়ে পুলিশ, প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ক্যাডারে ঢুকতে পারত না। সেই জন্যই CTTC তে এত হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাদের এত দাপট ছিল। তারাই আমাদেরকে বছরের পর বছর জেল খাটাইছে।

 

এই সাড়ে ১৫ বছরে যেই ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পুলিশ, প্রশাসনে ঢুকছে, এই মুজিববাদী আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তারাই আমাদের বিক্রমপুরী হুজুর, আইনুল হক কাসেমী, আব্দুল্লাহ আল মাইমুন ভাইকে বারবার ডিটেনশন দিয়ে, কঠিন কঠিন মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে এবং DB এর Cyber Crime Unit আমাকেও আমার এই লেখার জের ধরে “সেই কালো কুৎসিত জিহবার অধিকারী মহিলাই আজ ঈশ্বরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ” আবার গ্রেফতারের ষড়যন্ত্র চলছে।

 

আমরা সবাই জানি বেগম খালেদা জিয়া ইসলামের প্রতি soft ছিলেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক জিয়াও আলেমদের কে ভালবাসেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের জাতীয়তাবাদী সরকারের সাথে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দূরত্ব সৃষ্টি করার জন্য এই মুজিববাদী আমলারা উঠে পড়ে লেগেছে। BNP যদি এখনই এই ১৫ বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত মুজিববাদী আমলাদের বহিষ্কার না করে, তাহলে দেশে আবার একটা ৫ ই আগস্ট আসা সময়ের ব্যাপার। আওয়ামী লীগ তো তাও ভারতে ঢুকার সুযোগ পেয়েছে, BNP সেটাও পাবে না। তাই সময় থাকতেই BNP এর উচিত প্রশাসন, পুলিশ ক্যাডারের ভিতরে খাপটি মেরে থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ঝেটিয়ে বিদায় করা। আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখতে চাই না, ইসলামের সহযোগী হিসাবে দেখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button