
আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বে ভারতের হরিয়ানায় একটা ব্যাপক যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধের কারণে হিন্দুধর্ম একটি বিশাল বস্তুগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কৌরব-পান্ডবদের ব্যাপক স্থানচ্যুতির কারণে হিন্দুধর্মের প্রচুর নিদর্শনগত ক্ষতি হয়। মহাভারতের ভাতৃঘাতী যুদ্ধের কারণেই বেদের হস্তলিপি পাওয়া খুব দূর্লভ। বিপুল সংখ্যক ব্রাক্ষণের স্থানচ্যুতি এটা যে কারণেই হোক এর দ্বারা হিন্দুধর্মের প্রচুর নিদর্শন গত ক্ষতি হয়। আর সেই কারণেই বেদ, পুরাণ, উপনিষদের হস্তলিপি পাওয়া খুব কঠিন।
হিন্দুদের পুরাণ, উপনিষদ, মহাভারত, রামায়নে বহু যুদ্ধের ইতিহাস পাওয়া যায়। মহাভারতে কৌরব-পাণ্ডব, রামায়নে রাম-রাবণ-হনুমানদের মাঝে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছে। আধুনিককালে শ্রীলংকার তামিল টাইগাররা কত দুধর্ষ ছিল, তা আমরা সবাই জানি। ইসলামপূর্ব যুগে ভারতের মহারাজারা নিজেদের ভিতরে কত যুদ্ধ-বিগ্রহ করেছে, সেটা তো ইতিহাসেই লেখা আছে। এমনকি হিন্দুদের দেবতাদের মাঝেও অনেক যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে। আর দেব-দেবতা ও অসুরের যুদ্ধের কথা তো আমরা সবাই জানি।
সনাতন জাতি প্রথার মাঝে ক্ষত্রিয় নামে একটা জাত আছে, যাদের কাজই হচ্ছে যুদ্ধ করা। তাই যেই ধর্মের ইতিহাসে এত যুদ্ধ-বিগ্রহ আছে, নিজেদের জাতিভেদ প্রথায় ক্ষত্রিয় নামক ১টা যোদ্ধা জাত আছে। এমনকি দেবতারাও যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়তে পারেনি। তো এখন আমার কথা হলো—
“গাজর, শসা, টমেটো খেয়ে কি এত যুদ্ধ করা যায় ? মহাভারতের কৌরব, পাণ্ডবরা নিশ্চয়ই টমেটো, শসা আর ধনেপাতা খেয়ে এত বড় বড় যুদ্ধ করেনি। মহাভারতে সেই যুগে সর্বোচ্চ মারণাস্ত্রই প্রয়োগ করা হয়েছিল। ”
তো এটা বোঝাই যাচ্ছে, সনাতন ধর্ম-সমাজকে জৈনরা গ্রাস করেছে। খ্রিষ্টীয় ১ম শতাব্দীতে শৈব ও বৈষ্ণবদের অত্যাচারের ফলে ভারতবর্ষে জৈন ধর্ম এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রচুর সংখ্যক জৈন জীবন বাচাতে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। ঠিক তখন থেকেই জৈন মতবাদের প্রভাবে হিন্দু ধর্ম ধীরে ধীরে আমিষ থেকে নিরামিষের দিকে ধাবিত হতে থাকে। আর ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু ধর্ম চূড়ান্ত নিরামিষ ধর্মে পরিণত হয়। নরেন্দ্র মোদি কে আমরা মহাবীর তীর্থঙ্করের একটা আধুনিক ভার্সন বলতে পারি।

ঠিক গৌতম বুদ্ধের সময়ে আর এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মহাবীর জৈনের আবির্ভাব হয়েছিল, যিনি সকল তীর্থঙ্করের গুরু ছিলেন। জৈন ধর্মের তিনিই প্রবর্তক। ওই জৈনরা ছিল কট্টর নিরামিষাশী। জৈনদের মত এত কট্টর মাছ-মাংস বিরোধী পৃথিবীতে আর কেউ আছে কিনা, সন্দেহ। আধুনিক হিন্দুধর্মকে আমরা জৈনধর্মের ১টা নিরামিষ সংস্করণ বলতে পারি। বর্তমান হিন্দুধর্মকে খাদ্যের দিক থেকে জৈনধর্ম গ্রাস করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।

আপনারা একটু ভেবে দেখুন পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখান শাক সবজি চাষ প্রায় হয় নাই বললে চলে। যেমন মধ্যপ্রাচ্য, সারা বছর বরফ আচ্ছাদিত এলাকা উত্তর মেরু, দক্ষিন মেরু। মধ্যপ্রাচ্য, এস্কিমোরা যদি এখন যদি ইসকন ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে সারা বছরের জন্য এত শাকসবজি তারা কোথা থেকে পাবে ? সারা বছরের জন্য নিরামিষাশী তারা চাইলেও কি হতে পারবে ? তাছাড়া শীতকালীন দেশে মাছ মাংস ছাড়া টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব।
ইশ্বরের ধর্ম হতে হবে সার্বজনীন ও আর্ন্তজাতিক। সনাতনীদের ইশ্বর কি জানতো না যে পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যেখান শাক সবজি চাষ হয় না তারা পুরোপুরি প্রাণীজ আমিষের উপর নির্ভরশীল ? সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ইসকন ও হিন্দু ধর্মের আইডলোজী পুরো পৃথিবীতে এপ্লাই করা সম্ভব না। তাই হিন্দু ধর্ম সার্বজনীন আর্ন্তজাতিক কোন ধর্ম নয়। আর যে ধর্ম সার্বজনীন নয় এবং পুরো পৃথিবীর মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয় সেটি ইশ্বর থেকে প্রেরিত সত্য ধর্ম হতে পারে না।
আর সবসময় নিরামিষ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কখনোই ভাল নয়। মানব শরীর প্রাণীজ আমিষ না পেলে দুর্বল হয়ে যায়। মানব শরীর গঠনে মাছ মাংস প্রতিদিন খেতে হবে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি মাছ মাংস খায় ওইসব দেশের গড় আয়ু বেশি যেমন জাপান ইউরোপ আমেরিকার মানুষেরা। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন মাংস না খেলেও প্রতিদিন মাছ খায়। এই কারনেই বাংলাদেশের গড় আয়ু ভারতের থেকে বেশি। বাংলাদেশের গড় আয়ু 74 বছর অন্যদিকে ভারতের গড় আয়ু ৬৮ বছর ।ভারতের যেসব রাজ্য মাছ মাংস বেশি খায় তাদের গড় আয়ু নিরামিষ খাওয়া রাজ্য গুলো থেকে বেশি যেমন কাশ্মীর ও কেরালা।
প্রতিদিন মুরগীর মাংস অথবা ওমেগা ফ্যাট সমৃদ্ধ মাছ খেলে গড় আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকে। গরুর মাংস খাসির মাংস সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একবার খাওয়া উচিত ভাল সুঠাম দেহ তৈরীতে । একটা কথা সবাই মনে রাখবেন মানুষ কিন্তু শাক সবজি খেয়ে পরিপূর্ণ ভাবে হজম করতে পারে না, কিন্তুু মাছ মাংস খেয়ে মানুষ পরিপূর্ণ ভাবে হজম করতে পারে।