অন্যান্য ধর্ম

হিন্দু ধর্ম এই নামটি কি মুসলমানদের দেয়া ?

হিন্দুধর্মের প্রকৃত নাম হওয়া উচিত দেববাদ

 

বেদ, পুরাণ, উপনিষদের কোথাও হিন্দু ধর্ম শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায় না, হিন্দুদের কোন দেব-দেবীও নিজেদের কে হিন্দু বলে পরিচয় দেয় নি, তাহলে এই হিন্দু শব্দটি কোথা থেকে এল ? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হিন্দুরা যাদেরকে এত ঘৃণা করে সেই মুসলমানরাই হিন্দুদের কে এই হিন্দু নামটা উপহার হিসেবে দিয়েছে। আর হিন্দুরা মুসলমানদের দেয়া নামেই নিজেদেরকে হিন্দু হিসাবে অভিহিত করে।

সিন্ধু পাকিস্তানের একটি নদের নাম। আগেকার সময়ে পারসিক ও আরবী ভাষা-ভাষী লোকেরা অর্থাৎ ইরানীরা ও আরবরা সিন্ধু নদের নিকটবর্তী লোকদের ‘হিন্দু’ বলতো। এর কারণ হ’ল তারা সিন্ধুকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারত না। তারা ‘স’ উচ্চারণ করতে যেয়ে ‘হ’ বলে ফেলত। ফলে ‘সিন্ধু’ই ‘হিন্দু’ হয়ে যায় এবং এইভাবেই তাদের ধর্মকে ‘হিন্দু’ বলা শুরু হয়। কিন্তু পারসিক ও আরবরা হিন্দু বলতে সিন্ধু নদীর ঐপারে যেই জনগোষ্ঠী বসবাস করত তাদের কে বুঝাত। তারা হিন্দু বলতে কোন ধর্মকে বুঝাত না। কিন্তু মুসলমানরা ভারতে আসার পর এই হিন্দু নামটার ব্যাপকভাবে প্রচলন শুরু হয়। এবং পরবর্তীতে মুসলমানদের দেয়া একটি জনগোষ্ঠীর নামই তাদের ধর্মের নামে নামাঙ্কিত হয়।

 

হিন্দু” শব্দটি অ-দেশীয় ফার্সি শব্দ হওয়ায় এর ব্যবহার বর্তমান হিন্দুরা তেমন একটা করতে চায় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের সময় “সনাতন” শব্দটি হিন্দুধর্মের সমার্থক শব্দ হিসাবে প্রকাশ পেয়েছিল। বর্তমানে হিন্দুরা তাদের ধর্ম কে সনাতন ধর্ম বলেই পরিচয় দিতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

 

হিন্দুধর্ম গ্রন্থের কয়েক জায়গায় এই সনাতন শব্দটি পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে সনাতন শব্দের অর্থ চিরন্তন, শ্বাশত, নিত্য যেগুলো সৃষ্টি কর্তার গুন হিসাবে ধরা হয়। যেমন আমরা বলি পরমেশ্বর উনি অনাদি অনন্ত। ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে সনাতন ইশ্বরের গুন বোঝাতে ব্যবহারিত হয়েছে , ধর্মের নাম হিসাবে নয় অর্থ্যাৎ সনাতন পরমেশ্বর । আর যদি সনাতন শব্দকে ধর্মের নাম হিসাবে ব্যবহার করায় হয় তবে সেটি হবে গাণিতিক ভাবে একটা ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ কোনো ধর্ম ইশ্বরের আগে পৃথিবীতে আসেনি বরং যখন কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিলো না তখন শুধু ইশ্বর ছিলো পরবর্তীতে এই মহাবিশ্ব, মানুষ তারপর ধর্ম এসেছে।

 

সনাতন   ১. /বিশেষণ পদ/ চিরন্তন, শাশ্বত, নিত্য, চিরস্থায়ী; অপরিবর্তনীয় ও বহুকাল প্রচলিত। ২. /বিশেষ্য পদ/ ঈশ্বর।

 

অর্থ্যাৎ সনাতন শব্দের বিশেষ্য পদ হলো সৃষ্টি কর্তা। আর সনাতন হল একটা বিশেষন পদ আর এই বিশেষন পদ টা ঈশ্বরের গুণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আর ঈশ্বরের বিশেষন পদ কখনো কোন ধর্মের নাম হতে পারে না। সুতরাং সনাতন কোনো ধর্মের নাম হলে সেটি ব্যাকরণগত ভাবে ভুল হবে।

Brahman

বেদ এবং বৈদিক সাহিত্যে ‘সনাতন’ শব্দটিকে মূলত ‘শাশ্বত’, ‘চিরন্তন’ বা ‘পুরাতন’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নাম নয় বরং ঈশ্বরের একটি গুণ হিসেবে বর্ণিত। আবার বেদের কোথাও বেদ শব্দটি খোঁজে পাওয়া যায় না। বেদ নামটা ব্রিটিশদের দেয়া। তাই আমার মতে হিন্দুধর্মের প্রকৃত নাম হওয়া উচিত পৌত্তলকতা বা দেববাদ। কারণ হিন্দু ধর্মে দেবদেবীরাই একচেটিয়া ভাবে মানুষের সব আরাধনা ভোগ করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button