ঠিক যে কারণে আমি শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলাম


একটি অভিযোগ প্রায়ই অনেকেই করেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্যই হেফাজতে ইসলাম শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধীতা করেছে। আচ্ছা ২০০৯ সাল থেকেই তো ছাত্রলীগ যুবলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করে আসছে, কই তখন তো এই দেশের হক্কানী উলামায়ে কেরামগণ যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ যুবলীগের কোন সমালোচনা করেননি। যুদ্ধপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যখন স্কাইপ কেলেংকারির জন্য পদত্যাগ করেন, কই তখনো তো হেফাজতে ইসলাম এই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম নিয়ে কোন কথা বলেনি। সাকা চৌধুরীর যখন রায়ের কপি ফাঁস হয়ে যায় তখনও তো হেফাজতে ইসলাম এই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম নিয়ে কোন কথা বলেনি। আর বেশ কিছু দিন আগে কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়ে গেছে, তখনও কিন্তু হেফাজতে ইসলাম কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে কোন কথা বলেনি।
তাহলে ঠিক কি কারণে এই শাহবাগীদের বিরুদ্ধে এত তীব্রভাবে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন করেছে?
আমরা সবাই জানি যে, এই শাহবাগ আন্দোলনটা শুরু হয়েছিলো Blogger and Online Activist Network (BOAN)
কর্তৃক এবং শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্ব পুরোপুরিই ছিল এই Blogger and Online Activist Network (BOAN) এর হাতে।
আচ্ছা এই Blogger and Online Activist Network (BOAN) নামক সংগঠনটাকে কি আপনারা চিনতে পেরেছেন?
স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, চতুর্মাত্রিক ব্লগ, ধর্মকারী ইত্যাদি, এসব ব্লগের মডারেটর ও ব্লগারদেরকে নিয়েই কিন্তু Blogger and Online Activist Network (BOAN) এই সংগঠনটি গঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের এই ব্লগগুলিতে নামে বেনামে ও বিভিন্ন ছদ্মনামে আল্লাহ্র রাসুলকে নিয়ে ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মুল মু’মিনীনগণকে নিয়ে অনেক অশ্লীল ব্লগ লেখা হয়েছে। যারা আগে থেকেই এই ব্লগগুলাতে ভিজিট করেছেন তারা জানেন যে, এই ইতর থাবা বাবা ওরফে ব্লগার রাজীব এই আমার ব্লগ, স্যামহোয়ার ইন ব্লগ ও নাগরিক ব্লগেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মুল মু’মিনীনগণকে নিয়ে চরম একটি অশ্লীল ব্লগ “লাড়ায়ে দে” লিখেছিল। শুধু “লাড়ায়ে দে” -এর কথা বললে ভুল হবে, থাবা বাবা ওরফে ব্লগার রাজীব দ্বীন ইসলামকে আক্রমণ করে চরম অশ্লীল থেকে অশ্লীল অনেক কুরুচীপূর্ণ ব্লগপোষ্ট এই স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগে লিখেছিল।


থাবা বাবা, আল্লামা শয়তান আসিফ মহিউদ্দীন, সাদিয়া সুমি উজ্জা, দাঁড়িপাল্লা ধমাধম, দিগম্বর পয়গম্বর এই জাতীয় কুলাঙ্গার সংশয়বাদী ব্লগারদের ইসলাম বিদ্বেষী সকল লেখা দিনের পর দিন এই স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, চতুর্মাত্রিক ব্লগ, ধর্মকারী এসব ব্লগের মডারেটররাই প্রকাশ করার সুযোগ করে দিয়েছে। স্যামহোয়ার ইন ব্লগের মালিক নরওয়ের নাগরিক অরিল তো বাংলাদেশে এসেছেই নাস্তিক্যবাদের প্রচার ও প্রসার করতে।
আপনাদের হয়ত মনে থাকবে, ২০১৩ সালে ইউটিউবে ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করে স্যামবাসিলের “ইনোসেন্স অব মুসলিম” ঐ ভিডিওটি যখন আপলোড করা হয়, তখন এর কয়েকদিন পরেই দাঁড়িপাল্লা ধমাধম বৃহস্পতিবার রাতের বেলায় স্যামহোয়ার ইন ব্লগে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু কাল্পনিক উদ্ভট ও অশ্লীল চিত্র এঁকে একটি ব্লগপোষ্ট করে। আর স্যামহোয়ার ইন ব্লগের মডারেটর জানা, অরিল ও শরৎ চৌধুরী সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা দাঁড়িপাল্লা ধমাধমের ঐ ব্লগপোষ্টটি স্যামহোয়ার ইন ব্লগের নির্বাচিত পাতায় স্টিকি করে দেয়।
আর সামুর নির্বাচিত পাতায় থাকার কারণে সারারাত ধরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে দাঁড়িপাল্লা ধমাধমের ঐ বিতর্কিত ছবি সম্বলিত ব্লগ পোষ্টটি সবাই পড়তে বাধ্য হয়। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে কুলাঙ্গার সংশয়বাদীদের কত অশ্লীল মন্তব্যই না দাঁড়িপাল্লা ধমাধমের ঐ ব্লগপোষ্টে পোষ্ট হচ্ছিল! এখন আপনারাই বলুন, এই যে দাঁড়িপাল্লা ধমাধম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে অশ্লীল ছবি সম্বলিত একটি ব্লগপোষ্ট তাও আবার ব্লগের নির্বাচিত পাতায় প্রকাশ করার সুযোগ পায়! এইজন্য তো অবশ্যই স্যামহোয়ার ইন ব্লগের মডারেটর জানা, অরিল ও শরৎ চৌধুরীগংরাই দায়ী।
আমার এখনো মনে আছে, আজ থেকে ৩ বছর পূর্বে রাজীব যখন থাবা বাবা নামে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করে অশ্লীল সব লেখা ব্লগে পোষ্ট করা শুরু করে, তখন নাগরিক ব্লগ, স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, আমার ব্লগের মডারেটররাই পিঠ চাপড়ে রাজিবকে বাহবা দিয়েছিল। এমনকি দিনের পর দিন স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, চতুর্মাত্রিক ব্লগ এবং ধর্মকারীতে উম্মুল মু’মিনীনদেরকে নিয়ে অনেক চটি ব্লগপোস্টও লেখা হয়েছিল। হাজার হাজার রিপোর্ট পাওয়ার পরও ঐসব ব্লগের মডারেটররা উম্মুল মু’মিনীনদেরকে নিয়ে সেই সব অশ্লীল ব্লগপোস্ট মুছে ফেলেনি।
আর হ্যাঁ, ঐসব ব্লগে কিন্তু আপনি কখনোই হিন্দু ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু লিখতে পারবেন না। হিন্দু ধর্মের শিবলিঙ্গ পৃজা বা হিন্দুদের মা কালীর জিহবা বের করা অবস্থায় তার স্বামী মহাদেবের পেটের উপর অবস্থান এ জাতীয় কোন ব্লগপোষ্ট যদি আপনি এসব ব্লগে লিখেন, তাহলে সাথে সাথে ঐসব ব্লগের মডারেটররা আপনার ঐ লেখা মুছে দিবে। আপনারা জানেন যে, গৌতম বুদ্ধ সারা জীবন তার নিজ স্ত্রী যশোধরা ও পুত্র সিদ্ধার্থের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। তাই গৌতম বুদ্ধ কি কখনো মানব জাতির আদর্শ হতে পারে?
এই টাইপের শিরোনামে আপনি কোন একটি ব্লগ লিখলে সাথে সাথে স্যামহোয়ার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ তা মুছে দেয়। আমি নিজেই এর সাক্ষী।
আমি স্যামহোয়ার ইন ব্লগে ‘গৌতম বুদ্ধ কি কখনো মানব জাতির আদর্শ হতে পারে?’ এই শিরোনামে একটি ব্লগ লেখার সাথে সাথে স্যামহোয়ার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ তা মুছে দিয়েছিলো এবং আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলো যে, ভবিষ্যতে এ জাতীয় আর কোন ব্লগ লিখলে আমাকে সাথে সাথে ব্যান করা হবে।
কিন্তু স্যামহোয়ার ইন ব্লগে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মুল মু’মিনীনগণকে নিয়ে অনেক অশ্লীল ব্লগ লেখা হয়েছে এবং এই ব্লগগুলি এখনো স্যামহোয়ার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ যথারীতি রেখে দিয়েছে। পরবর্তীতে গৌতম বুদ্ধকে নিয়ে লেখা আমার ব্লগটি আমি আমার ফারাবী ব্লগে পোস্ট করি।
কিন্তু আসিফ মহীউদ্দীন, আল্লামা শয়তান, দাঁড়িপাল্লা ধমাধম গংরা স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন ব্লগে উম্মুল মু’মিনীনদেরকে নিয়ে যত অশ্লীল কথাই লিখুক না কেন ঐসব ব্লগের মডারেটররা তাদের ইসলাম বিদ্বেষী লেখাগুলিকে নির্বাচিত পাতায় স্থান করে দিবে। ফেইসবুকে আসিফ মহিউদ্দীনের লেখা “মহাপবিত্র আহাম্মোকপিডিয়া ও একটি শান্তির ধর্ম” এই NOTE টির প্রতিবাদ করে স্যামহোয়ার ইন ব্লগে ১টি ব্লগপোষ্ট লেখার কারণে স্যামহোয়ার ইন ব্লগের মডারেটররা আমাকে সাথে সাথেই ব্যান করে দেয়। থাবা বাবার মৃত্যুর পরের দিন অর্থাত্ ১৬ ফেব্রুয়ারী আমি আমার ব্লগে “থাবা বাবার কু কীর্তি জানুন” এই শিরোনামে একটি ব্লগপোষ্ট লেখার কারণে আমার ব্লগ কর্তৃপক্ষও আমাকে সাথে সাথে ব্যান করে দেয়।
স্যামহোয়ার ইন ব্লগে আসিফ মহীউদ্দীনের সমালোচনা করে কেউ কোন ব্লগ লিখলেই সামুর মডারেটররা তাকে সাথে সাথে নিরাপদ ব্লগার থেকে সাধারণ ব্লগার বানিয়ে দেয়। আসিফ মহীউদ্দীন, আল্লামা শয়তান, থাবা বাবা- এরা দিনের পর দিন স্যামহোয়ার ইন ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন ব্লগে দ্বীন ইসলামকে নিয়ে কত অশ্লীল লেখাই না লিখলো!
আসিফ মহিউদ্দীনের “মহাপবিত্র *** পিডিয়া ও ১ টি শান্তির ধর্ম।” এই ব্লগে নরাধম আসিফ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়শা রা. কে নাউযুবিল্লাহ নায়িকা টাকিয়া হিসেবে অভিহিত করে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করে।
তখন কিন্তু তাদের ইসলাম বিদ্বেষী ঐসব লেখা সেই সব ব্লগের মডারেটররা মুছেও না। তাদেরকে ব্যান করা তো দূরের কথা।
আর আমি ফারাবী ঐসব ব্লগে সংশয়বাদীতা বিরোধী কোন কিছু লিখলেই সাথে সাথে তারা আমাকে ব্যান করে দেয়! স্যামহোয়ার ইন ব্লগে এই আসিফ মহীউদ্দীনের বিরুদ্ধে লেখার কারণে সামুতে যে কত জন ব্যান খেয়েছে তার ইয়াত্তা নেই।
BOAN এর একজন সক্রিয় কর্মী হল মহসিনা খাতুন। এই মহসিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে গালিগালাজ করে যাচ্ছে।
ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় দার্শনিকরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের মাথার মণি করে রাখে। আপনাদেরকে একটি উদাহরণ দেই- বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যুর পরে তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া যায়। বইটির নাম “The Sayings of prophet Muhammad ( PBUH). যার বাংলা অর্থ হল- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বাণী। ১৯০৫ সালে আল্লামা স্যার আব্দুল্লাহ আল-মামুন আল-সুহরাওয়ার্দী সংকলিত এই বইটিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৪৫১টি সুন্দরতম হাদীস স্থান পেয়েছে। এই সংকলনটিতে যেসব হাদীস স্থান পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ইসলামের সার্বজনীন শিক্ষার মাহাত্ম্য, দ্বীন ইসলামের উদারতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার, মানবকল্যানের স্বভাবসঙ্গত দিকগুলি। সংকলনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সারা বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপে বিপুলভাবে সমাদৃত হয় এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। সেই বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে “ The Sayings of prophet Muhammad ( PBUH).” এই বইটি লিও তলস্তয় থেকে শুরু করে অনেকেই পড়তেন। বাংলা ভাষায় এই গ্রন্থটি “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী ” নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ -এর যে কোন শাখা থেকে বইটি কেনা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের অনলাইনে তথাকথিত সংশয়বাদীরা তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য উদ্দ্যেশই বানিয়ে নিয়েছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালিগালাজ করা। তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ কোন ঘটনার সাথেও অনলাইনের সংশয়বাদী সমাজ সেই ঘটনার প্রসঙ্গ ধরে দ্বীন ইসলামকে কটাক্ষ করা শুরু করে।
তাই শাহবাগ আন্দোলনটি যেহেতু এসব ব্লগের কুলাঙ্গার মডারেটরদের নেতৃত্ত্বেই হয়েছিল, সেহেতু ‘হেফাজতে ইসলাম’ শক্তভাবে এই শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধীতা করেছে। প্রথম দিকে শাহবাগ আন্দোলনটা শুধু যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাওয়ার জন্য হলেও পরবর্তীতে এই শাহবাগী সংশয়বাদীরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী জানায়। সে সময় শাহবাগী সংশয়বাদীদের কথায় সারাদেশ চলেছে। এমনকি BPL খেলা বন্ধ করে শাহবাগী সংশয়বাদীদের নির্দেশ মত ৫ মিনিট মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রাও সেই শাহবাগ আন্দোলনে দৌঁড় মেরেছিল ক্রিকেট সভাপতি পাপনকে খুশি করতে। ইমরান এইচ সরকারের কথায় তখন দেশের জাতীয় পতাকা উঠত আর নামত। এমনকি শেখ হাসিনাও এই শাহবাগী সংশয়বাদীদেরকে খুশি করতে নালা-নর্দমা, ডাস্টবিন, ও চিপা অলিগলি পার হয়ে মিরপুরের পলাশ নগরে কুলাঙ্গার সংশয়বাদী ব্লগার রাজীবের বাসায় চলে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, শাহবাগী সংশয়বাদীদেরকে খুশী করতে শেখ হাসিনা তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কেও কুলাঙ্গার সংশয়বাদী ব্লগার রাজীবের জানাজায় পাঠিয়েছিল। ছি! এই শাহবাগী সংশয়বাদীদের কারণেই আমি ফারাবী একটানা ৬ মাস কাশিমপুর কারাগারে জেল খেটেছি। মাত্র একটি মামলা নিয়ে আমি জেলে গেলেও এই শাহবাগী সংশয়বাদীদেরকে খুশি করতে কাশিমপুর জেল কর্তৃপক্ষ আমার পায়ে ডান্ডাবেড়ি পড়িয়েছিল। হেফাজতে ইসলাম যদি সেই সময় এই শাহবাগী সংশয়বাদীদেরকে প্রতিহত না করত, তাহলে এতদিন বাংলাদেশ একটা Atheist Republic State এ পরিণত হয়ে যেত।
২০০৮ সালে মুম্বাই তাজ হোটেল হামলায় অভিযুক্ত আজমল কাসাবের লাশ কিন্তু স্থানীয় মুম্বাই কবরস্থান কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। আজমল কাসাবের লাশ পরে জেল কর্তৃপক্ষ আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিল। এমনকি এই আজমল কাসাবের কোন জানাজাও হয়নি। মুম্বাইয়ের কোন ইমাম এই আজমল কাসাবের জানাজা পড়তে রাজি হননি। কিন্তু বাংলাদেশে কি হল ? যে রাজীব সারাজীবন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে, মিথ্যা কাহিনী রচনা করে উম্মুল মু’মিনীনদের সম্মানহানী করেছে। তা হত্ত্বেও এই রাজীবের রাজকীয় জানাজা হল বাংলার মাটিতে ! শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নিজে রাজীবের খাটিয়া বহন করে। শুধু তাই নয়, এই রাজীব/থাবা বাবা অযাচারকেও সমর্থন করতো।
রাজীব যে incest/অযাচার কে সমর্থন করত এর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ এখানে।[1] https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article595435.bdnews

যেই রাজীব/থাবা বাবা সারা জীবন প্রকাশ্যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে গালিগালাজ করে গেছে, তারও জানাজা হতে পারল এই বাংলার মাটিতে ! বাঙ্গালী মুসলিম জাতির জন্য এরচেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে? কবরস্থানে শুধুমাত্র একজন মুসলমান সমাহিত হতে পারে, কোন কুলাঙ্গার নাস্তিকের লাশ কখনোই কোন কবরস্থানে সমাহিত হতে পারে না। রাজীবের লাশ ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানায় বাঘের খাদ্য হিসাবে দেয়া হোক।
One Comment