আস্তিকতা-নাস্তিকতা

অভিজিৎ রায়ের দ্বিচারিতা

আমার মামলাগুলো অভিজিৎ রায় সংক্রান্ত হলেও আমি সাধারনত অভিজিৎ রায়কে নিয়ে কিছু লিখি না। অভিজিৎ রায়কে নিয়ে কিছু লিখতে আমার রুচিতে বাঁধে। এরপরও আমি অভিজিৎ রায়ের সহিত সম্পর্কিত ১টি ঘটনা আজকে বিস্তারিত ভাবে সবাইকে বলব যেন ভবিষৎ প্রজন্ম অভিজিৎ রায়কে ভালোভাবে চিনতে পারে।

অভিজিৎ রায় বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বুয়েটের অনেক মেয়ে অভিজিৎ রায়ের ভক্ত ছিল। অনেক উচ্চশিক্ষিত মেয়ে অভিজিৎ যা বলত তা অবলীলায় বিশ্বাস করত। অভিজিৎ এর Friend List এ বুয়েট থেকে পাস করা একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন যিনি একবার অভিজিৎ রায়ের লেখায় বেশ কয়েকটি comment করেছিলেন।

আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগের কথা সেই ২০১৪ সাল, তাই ঐ মহিলা ইঞ্জিনিয়ারের নামটা আমার ঠিক মনে নাই। উনি comment ও যেই কথাগুলি বলেছিলেন আমি এখন সেগুলোই বলব। অভিজিৎ রায় সব সময় ১টা hype উঠাতো যে পশ্চিমা বিশ্বের সব লোক নাস্তিক হয়ে গেছে, ঐখানে আর কোন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নাই। যারা আছে তারা সব আমাদের ধর্মের ভাই। সব মুক্তমনা, নাস্তিক, সংশয়বাদী। তো ঐ প্রবাসী মহিলা ইঞ্জিনিয়ার সেখানে comment করে – ” আমি আপনার কথা মত বাংলাদেশে থাকতে সব সময় ভাবতাম ইউরোপ আমেরিকার সব লোক নাস্তিক। এরপর আমি যখন বুয়েট থেকে পাস করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হলাম, তখন ১ টা আইটি রিলেটেড প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করা শুরু করি। আমি ছাড়া ঐ প্রতিষ্ঠানের সবাই ছিল সাদা চামড়ার অধিকারী।

তো আমি আপনার কথা মত ভাবছি যেহেতু আমার সব কলিগরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, তাই তারা সব নাস্তিক। আমি আমার ধর্ম বিশ্বাস তাদের কাছে খোলাখুলি ভাবে বলি যে, আমিও আপনাদের মত একজন Free Thinker, আমি কোন ধর্মে বিশ্বাসী নই। আমার এই কথা বলার সাথে সাথে অফিসের সবার চোখ মুখ কালো হয়ে গেল। তৃতীয় বিশ্বের ১ জন নারী সরাসরি ধর্মকে অস্বীকার করবে, এটা আমেরিকানদের মাথায় ছিল না। তো ঐ মহিলা ইঞ্জিনিয়ার নিজে কে নাস্তিক বলে পরিচয় দেবার পর উনার পক্ষে অফিস করা খুবই দূরহ ব্যাপার হয়ে যায়। পুরো অফিসের পরিবেশ ১টা গুমোট ভাব ধারন করে।

শেষে অবস্থা এমন প্রতিকূল দাড়ায় যে উনি আর সেই আইটি ফার্মে উনার job continue করতে পারেন নাই। উনাকে সেই প্রতিষ্ঠানের চাকুরি ছাড়তে হয়। এরপর ঐ প্রবাসী মহিলা ইঞ্জিনিয়ার, অভিজিৎ রায়কে প্রশ্ন করে আমি তো আপনার কথা মত সকল সাদা চামড়ার লোকদের কে নাস্তিক ভেবেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে আমার অফিসের একজন মার্কিন নাগরিককেও সংশয়বাদীদের মত আচরন করতে দেখলাম না। আপনার কথা মত নিজেকে মুক্তমনা পরিচয় দিয়ে উল্টো আমি আমার চাকুরি হারালাম। হ্যাঁ সাদা চামড়ার লোকেরা ধার্মিক না, তারা গলায় ক্রুশ ঝুলিয়ে রাখে না, নিয়মিত গীর্জায় যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা সবাই যীশু খ্রিষ্টকে ধারন করে।

তখন গাভীজিৎ রায় আবোল তাবোল বকা শুরু করে। আমেরিকার এক এক state এক এক রকম। উত্তর দক্ষিনের ধর্ম বিশ্বাস আলাদা। কিন্তু আমার এখনো মনে আছে ঐ প্রবাসী মহিলা ইঞ্জিনিয়ার নিউইয়র্কে চাকুরি করতেন, কোন Midwest এর ভিতরে নয়।এভাবেই গাভিজিৎ রায় তার দ্বিচারিতা প্রকাশ করত। “মাছের বড় মাথাটা আমার” গাভীজিৎ রায়ের চালচলন ছিল সব সময় অনেকটা এরকম।

হাতির ২ টা দাঁত সামনে থাকলেও হাতি ঐ সামনের দাঁত দিয়ে খায় না, হাতি ভিতরের দাঁত দিয়েই খায়, তাই বাইরে থেকে যা মনে হয় ভিতর থেকে তা না।

পশ্চিমা বিশ্বের লোকেরা মুখে ধর্মের কথা তেমন একটা বলে না, আচার আচরনে তেমন একটা ধার্মিক না কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা সবাই খ্রিষ্ট ধর্মকে লালন করে। সাদা চামড়ার লোকেরা কট্টর খ্রিস্টান বলেই এখনো তারা মুসলিম গনহত্যাকে support করে। নিজেদের পূর্ব তিমিরকে ঠিকই স্বাধীন করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, চেচনিয়ার গনহত্যার ব্যাপারে একদম চুপ। আর সাদা চামড়ার লোকেদের ধর্মের প্রতি নিষ্ক্রিয়তা দেখেই মুক্তমনারা তাদের নাস্তিক বলে চালিয়ে দিতে চায়।

ইউরোপ আমেরিকায় যেখানে ডানপন্থীদের জয় জয়কার যাদের প্রায় সবাই উগ্র খ্রিস্টান এবং সেখানে ডানপন্থীরাই নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে তাই ইউরোপ আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ নাস্তিক এই কথাটা বলা চরম মূর্খতা বই কিছু না।

আমেরিকানরা কতটা মুক্তমনা তা তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেখলেই বোঝা যায়। তারা একজন নারীর চাইতে একজন উন্মাদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি আছে।

পশ্চিমা বিশ্ব প্রবল ভাবে খৃষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী, মার্কিন ডলারেও লেখা আছে ` ইন গড উই ট্রাস্ট’।

আমিরিকানরা অনেক বেশি ধর্মভীরু । ওদের সেনাবাহিনীতেও ধর্মীয় মতামত শিখিয়ে উজ্জীবিত রাখা হয় । ইরাক যুদ্ধের সময় বুশ ক্রুসেড শব্দটা উচ্চারণ করেছিল। আবার অন্য দিকে আমেরিকানরা প্রচুর পরিমান জ্বীন ভুতে বিশ্বাসী। Faith based school system উত্তর আমেরিকায় প্রচুর আছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাগরিকরা শুধু আস্তিকই নয় বরং চার্চ গুলো চালু থাকার জন্য সরকার নির্ধারিত ট্যাক্সও তারা পরিশোধ করে । অষ্ট্রিয়া ও জার্মানী তাদের অন্যতম।

[ “অভিজিৎ রায়ের হাদীস বিকৃতির কিছু নমুনা, ১ম পর্ব” আমার সেই লেখাটা আমার সদ্য প্রকাশিত ফারাবী রচনা সমগ্র, ১ম খন্ডে পাবেন ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button