ইনকিলাব মঞ্চপর্যালোচনা

ইনকিলাব মঞ্চের বুদ্ধির দৌড় কতটুকু ?

 

বাংলাদেশে যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আছে এদের কাজ কি জানেন ? DB তে যে DC, ADC আছে এদের কাজ কি জানেন ? এদের কাজ হল এদের Team এর অধীনস্থ SI, constable দের কে দিয়ে নিজেদের বুট খোলা, বুট পরিস্কার করা আর জুতার ফিতা লাগানো। যে SI, inspector ভালো জুতার ফিতা লাগাতে পারে, উচ্চপদস্থ অফিসারদের বুটজোড়া পরিস্কার করতে পারে মিন্টুরোডের DB তে তাদেরই বেশী কদর।

আমি দীর্ঘদিন মিন্টু রোডের DB তে গুম ও রিমান্ড অবস্থায় ছিলাম। খুব কাছ থেকে এদের কাজ কারবার দেখেছি। থানা পুলিশে কোন BCS ক্যাডার থাকে না। যা থাকে সব নন ক্যাডার। থানাতে O.C., SI, ASI দের কথাই সব। Circle ASP সাধারনত থানায় আসে না। কিন্তু মিন্টু রোডের DB এর অবস্থা ভিন্ন। এখানে অনেক ছোট ছোট Team আছে। আর সেই সব Team এর প্রধান ১ জন AC (Assistant Comissioner) বা Senior AC. জেলা পর্যায়ে যাদেরকে Assistant police super (ASP) বা সহকারী এসপি বলে। District এ যিনি ASP, Metropolitan মহানগরে উনি AC/Assistant Comissioner.

DB তে AC, ADC (Additional Deputy commissioner) যা বলে তাই।

আর DC (Deputy commissioner) তো থাকে ঈশ্বরের মর্যাদায়। তো SI এবং inspector দের মূল কাজই থাকে DC এবং ADC কে সন্তষ্ট করা। আর অফিসারদের জুতার ফিতা লাগিয়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য উত্তম কাজ আর কি হতে পারে ? যেই constable, SI, inspector, DC বা ADC এর ভালো জুতার ফিতা লাগাতে পারে, উচচ্চপদস্থ অফিসারদের বুট জোড়া লাগানো ও খুলতে পারে তাদেরই বেশী দাম থাকে Team এর ভিতরে।

মোটাদাগে DB তে কাজের পারফরম্যান্স বলতে বুঝায় উচ্চপদস্থ অফিসারদের পায়ের যত্ন নেওয়া। মাঠ পর্যায়ে আপুনি কি কাজ করলেন সেটা সেখানে বিবেচ্য নয়। পুলিশের ACR/Annual Confidential Report/বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন নির্ভর করে DC, ADC এর পায়ের যত্ন নেওয়ার উপর।

আর এইজন্যই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অপাংক্তেয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশ্রামাগারে পরিনত হয়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে কোন কাজের আশা করা ভুল। পুলিশরা মূলত থানা, জেলা, মহানগরে পোষ্টিং নিতে চায়, পুলিশ লাইন, ট্রাফিক পুলিশ বা DB তে নয়। এগুলোতে পোস্টিং দিলে উনারা নিস্ক্রিয় হয়ে যায়।

 

আমাদের সময়ে CTTC, ATU এগুলো ছিল না। ২০১৫/১৬ দেশের সিরিজ ব্লগার হত্যাকান্ড এবং হলি আর্টিজানের পর ২০১৭/১৮ সালের দিকে পুলিশের এইসব রাজকীয় Team এর উৎপত্তি হয়েছে। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে এইসব শ্বেত হস্তীদের কে পালতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সময়ে এরাই ছিল দেশের islamist দের কে অত্যাচারের মূল চালিকাশক্তি। CTTC, ATU, RAB, DB, DGFI এর বর্তমান কাজ কি জানেন? এই ৫ই August এর পর যারা জামিন পেয়েছে তাদের বাসায় গিয়ে হালনাগাদ তথ্য নেবার নাম করে তাদের মা বোন স্ত্রীর চেহারা দেখার চেষ্টা করা, আমরা ঠিকমতো হাজিরা দেয় কিনা, নিজের বাড়ির পাশের মসজিদে নামায পরি কিনা, আমরা পরিবারের সাথে আছি না হিজরত করেছি এইসব আজগুবি বিষয় নিয়ে গবেষণা করা।

আর হাদী? আরে হাদীর হত্যাকারী শূটার ফয়সাল তো আমাদেরই ধর্মের ভাই। আমরা একসাথে ছাত্রলীগ করেছি। আমরা CTTC, RAB, DB, DGFI ই তো হাদীর হত্যাকারী শূটার ফয়সালকে নেত্রকোনার দূর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পার করিয়ে দিয়েছি।

যার নুন খাই, তাঁর গুণ গাই। ছাত্রলীগ কোটায় আমরা BCS ক্যাডার হয়েছি; তাই মুজিববাদের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ববোধ আছে না!

আমার ভাই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে ; কিন্তু দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা গুলো বেচে আছে !

আমার ভাই হাদী কবরে আর DB, NSI, DGFI নিয়মিত ইডেন মহিলা কলেজে পিএইচডি করছে।

মূল হত্যাকারী শূটার ফয়সাল কে আড়াল করতেই গোয়েন্দা সংস্থা গুলো শূটার ফয়সাল কার সাথে বিছানায় ঘুমাইছে, কার সাথে লিভ টুগেদার করছে, এইসব আজগুবি তথ্য এখন আমাদের সামনে উপস্থাপন করছে। আমরা মূল হত্যাকারী শূটার ফয়সাল কে চাই, শূটার ফয়সাল দিনে কয়বার কারসাথে অর্গাজম করছে এইসব জানতে চাই না।

আমি বিয়ে করার পরও SB আমার বাসায় ঢুকতে চেয়েছিল স্থানীয় থানা পুলিশের কথা বলে। চিন্তা করে দেখুন কত নিকৃষ্ট এরা। SB DB এদের নিস্ক্রিয়তার কারনেই তো আমার ভাই হাদী আজ মাটির নিচে। প্রত্যেক SB, DB কর্মকর্তা কে মাটির নীচে পুতে ফেলতে মন চাচ্ছে। সব কটা ছাত্রলীগের ক্যাডার।

শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট আর আমি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম ২০২৫ সালের ২২ শে আগস্ট। মাঝখানে জামিন হতে দীর্ঘ এক বছর ১৭ দিন কেন লাগলো তার আলাপ আমি অন্য দিন করব। ৫ ই আগস্ট এর পরপরই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জেলে আসা শুরু করে। আমি যেই বিল্ডিং এ থাকতাম সেই বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী থাকতো। অনেকেই আমার পাশের রুমে থাকতো আবার অনেকে আমার পাশের ব্লকে থাকতো। আমি তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বুঝতে পারলাম রিমান্ডে তাদের ওপর একটা ফুলের টোকাও পড়েনি। তারা জেলখানায় এসে দিব্যি নাদুস নুদুস চেহারা নিয়ে ঘুরাফেরা করছে, স্মোকিং করছে আর আমাকে ইচ্ছামত স্লেজিং করত।

 

আমি কেন নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতে গেলাম, ফাও এতদিন জেল খাটলাম এইসব ছিল তাদের আমাকে নিয়ে স্লেজিং এর বিষয় বস্তু।

কিন্তু আমি যখন ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর একটানা এক মাস রিমান্ড খেটে জেলে ঢুকলাম, তখন আমার দুই কানে প্রচণ্ড ব্যাথা। রিমান্ডের একপর্যায়ে ডিবির কনস্টেবল সাইফুল কবির আমার দুই কানে তার দুই হাত দিয়ে একটানা এতগুলো চড় মারে যে ২০২৫ সালে এসেও আমার কানে ব্যাথা করে। রিমান্ডে DB আমাকে কখনোই চেয়ারে বসতে দেয় নাই , সব সময় আমাকে তারা ফ্লোরে মেঝেতে বসিয়ে রাখত। আর DB এর কনস্টেবল, SI দের যখন ইচ্ছা হত পা দিয়ে আমাকে লাত্থি মারত। আমি ছিলাম পুরা টিমের একটা ফুটবল খেলার বস্তু।

কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতের মুসলিমদের সাথে যেরকম আচরণ করে, ঠিক এই ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদের সময়ে এই গোয়েন্দা সংস্থা গুলো আমাদের সাথে এরকমই আচরণ করেছে।

ফ্যাসিবাদের পুরা সময়টাতেই আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দেওয়া হতো।‌ আমার নিজেরও সন্ত্রাস দমন আইনে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। খুব আশা ছিল এই নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে এই Draconian ড্রাকোনিয়ান Law এর কোন ধারা আমাদের উপর আর প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য উত্তরায় ইসকন বিরোধী মিছিলে ডামি রাইফেল নিয়ে আমাদের এক ভাইয়ের অংশগ্রহণ করার কারনে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দেওয়া হয়। ঐ ভাই এখনো কারাগারে আছে।

কোন সভ্য সমাজে কখনোই কোন নিষিদ্ধ পল্লী থাকতে পারে না। নিষিদ্ধ পল্লী হচ্ছে মানবতার অপমান। ছায়ানট, উদীচি এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের নিষিদ্ধ পল্লী। আর প্রথম আলো, Daily Star হচ্ছে মিডিয়া জগতের নিষিদ্ধ পল্লী।

কোথায় ইউনুস সরকার এইসব নিষিদ্ধ পল্লী উচ্ছেদ করবে আর তা না করে আমাদের যেই সব ভাইয়েরা এইসব কর্তৃত্ববাদী মিডিয়া কে উচ্ছেদ করতে গেছে, আজকে তাদের বিরুদ্ধেই সেই শেখ হাসিনার সময়ের মত সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হচ্ছে। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সরকার ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের আড়াল করতেই এখন প্রথম আলো, Daily Star হামলার এইসব আজগুবি তথ্য জাতির সামনে হাজির করছে। আর আতাউর রহমান বিক্রমপুরী হুজুর কে ডিটেনশন দিয়ে তো ইউনুস সরকার আমাদেরকে সেই ৭০ দশকের মুজিববাদেই ফিরিয়ে নিয়ে গেল।বিক্রমপুরী হুজুরের ডিটেনশন জাতির নিউরন কে শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু কে ভুলে যেতে বাধ্য করেছে।

ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সরকার আবার CTTC, ATU, DGFI, Rab এইসব দানবকে আবার জাগিয়ে তুলতে চাচ্ছে। এই দানবগুলো আবার জাগলে আমাদের জনগনের এদের পেটের খাদ্য হওয়া  ছাড়া আর কোন উপায় নাই।

পুরো জাতির নিউরনের অনুরণ এখন প্রথম আলো, Daily Star আর বিক্রমপুরী হুজুরের ডিটেনশন নিয়েই আলোড়িত হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদির ইস্যু কে কি চমৎকার ভাবেই না ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সরকার আড়াল করে ফেলল। একজন সুদখোরের মাথায় যে বুদ্ধি আসে, ইবলিশ শয়তানের মাথায় তো মনে হয় সেই বুদ্ধি আসে না !

এখন তো আর বাঙালী জাতি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বদলা নিতে চায় না; বাঙালী জাতি এখন প্রথম আলো, Daily Star, উদীচি আর ছায়ানটের নৃত্যের কংকর ঝনির মাঝে হারিয়ে গেছে।

হায় ইনকিলাব মঞ্চ! তোমরা কিভাবে তোমাদের ভাই এর রক্ত কে এই প্রথম আলো, Daily Star, উদীচি আর ছায়ানটের উদ্দাম নৃত্যের মাঝে হারিয়ে যেতে দিলে ? এই তোমাদের intellectual Level. এই Intellectual Level নিয়ে তোমরা আসছ বিপ্লব করতে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button