ইসলাম বৈরিতা

মিথ্যামনাদের লজ্জাহীনতার সংস্কৃতি

গনজাগরণ মঞ্চের শুরুটা হয়েছিল স্যামহোয়ার ইন ব্লগের হাত ধরে। যেদিন জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় না হয়ে যাবজ্জীবন সাজার রায় হয় সেদিন স্যামহোয়ার ইন ব্লগের মালিক জানা, অরিল সকল ব্লগারদের কে শাহবাগে আসার আহবান জানায়। মজার ব্যাপার হল একজন ব্লগার হিসাবে স্যামহোয়ার ইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ সেদিন আমাকেও শাহবাগে যেতে বলে। কিন্তু আমি ঘৃণা ভরে তাদের সেই আহবান কে প্রত্যাখ্যান করি। গণজাগরণ মঞ্চের অজানা দিক জানুন আমার লেখা এই ব্লগ পোস্টে 

২০১৩ সালে রাজিব ওরফে থাবা বাবার মৃত্যুর পর সারা দেশে যখন তোলপাড়, তখন রাজিবের জানাজার নামাজ পড়ানো নিয়ে আমার একটা status কে কেন্দ্র করে আমি ৬ মাস জেল খাটি। সেই মামলার ঘানি আমি আজও টেনে বেড়াচ্ছি।

আমি এই ২০২৬ সালেও সংশয়বাদীদের কে দেখছি সারা দিন অনলাইনে আমাদের নবীজীকে গালাগালি করতে, আর মরার পর তারা তাদের জানাজার নামাজের ও দাবি করতে। কী অদ্ভুত স্ববিরোধিতা ! সারা জীবন তারা যেই ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বেড়ালো, আবার মৃত্যুর পর সেই ধর্মের আলেমদের থেকেই তারা রাজকীয় সম্মান কামনা করে। আর আমরা মুসলমানেরা চোখ বন্ধ করে তাদের সেই সব অন্যায় আবদার মেনে নিই। তবে আল্লাহর সকল বান্দা সমান নয়।

২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমি প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলাম। থাবা বাবার মৃত্যুর পর তার সকল কীর্তি অনলাইনে আমিই প্রথম ফাঁস করি। সেই কারণে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আমার ফাঁসির দাবিও উঠে। একজন মুক্তমনা কেও তখন দেখলাম না রাজিব একজন স্বঘোষিত নাস্তিক ছিল, সেটা প্রকাশ্যে বলতে। সবাই তখন ইনিয়ে বিনিয়ে রাজিব/থাবাবাবাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছিল, রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার জন্য নাস্তিকরা সব পাগল হয়ে গিয়েছিল।

যাই হোক, আমি সেই সময় রাজিবের জানাজার নামাজ যেন না হয় সেই ব্যাপারে অনলাইনে যথেষ্ট সক্রিয় হই। জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমি সেই স্ট্যাটাসে একটি কথা বলি – “কোনো স্বঘোষিত নাস্তিকের কখনো জানাজার নামাজ হতে পারে না। যে সারা জীবন আমাদের নবীজীকে নিয়ে অশ্লীল ব্লগ লিখেছে, তার আবার জানাজা কিসের ? ”

“রাজিবের লাশ ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানায় বাঘের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হোক; নাস্তিকদের লাশ বাঘের পেটেই মানায়“

আর যায় কোথায়! আমার এই লেখার প্রতিক্রিয়ায় নাস্তিকরা ঘোষণা দেয় আমাকে জেলে ঢোকানো না পর্যন্ত তারা রাতে ঘুমাবে না। ফলশ্রুতিতে আমাকে ৬ মাসের জন্য জেলে ঢুকতেই হয় এবং যথারীতি রাজিবের রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা হয়। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নিজে রাজিবের খাটিয়া বহন করে।

আপনারা দেখবেন, তসলিমা নাসরিনের মৃত্যুর পরেও এই জানাজা নিয়ে দিল্লিতে একটা ঝামেলা হবে। মোদি সরকার চাইবে দিল্লির জামে মসজিদে রাষ্ট্রীয় ভাবে তসলিমা নাসরিনের জানাজার নামাজ আদায় হোক। স্বাভাবিকভাবেই তখন দিল্লির মুসলমানেরা প্রতিবাদী হবে। মোহাম্মদ ঘুরির বংশধররা কখনোই তসলিমা নাসরিনের মৃতদেহ কোনো মুসলিম কবরস্থানে দাফন করতে দিবে না। তসলিমা নাসরিনের জানাজার নামাজকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের এই প্রতিবাদ মিছিলের মাঝেই শিবসেনা, বজরঙ্গী শ খানিক মুসলিমকে শহীদ করে ফেলবে।

সত্যিকথা বলতে কি এই নাস্তিকদের ভেতরে লজ্জা বলতে কিছুই নেই। লজ্জা কি জিনিস তারা জানেই না। তারা সারা জীবন যেই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, মৃত্যুর পরে তারা সেই বিশ্বাসের সাথেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চায়। হিন্দু-বৌদ্ধরা তো লাশ কবর দেয় না, আগুনে পোড়ায়। এই নাস্তিকরা তো সারা জীবন হিন্দু-বৌদ্ধদের সঙ্গেই গলাগলি করেছে; তো নিজের শেষ যাত্রাটা একটু মন্ত্র পাঠ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেললে ভালো হয় না নাকি।

নাকি নিজেদের একটু জাতে তোলার জন্য, একটা এলিট শ্রেণীর ভাব আনার জন্য, একটা নামফলকের জন্য মুসলমানদের কবরস্থানে একটু জায়গা করে নিতে চান আপনারা ? আপনাদের এইসব দ্বিচারিতার কারনেই আমি আপনাদের কে মুক্তমনা বলি না, আমি আপনাদের কে মিথ্যামনা বলি।

বদরুদ্দীন উমর তো একজন স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন। তারও জানাজার নামায শেষে জুরাইন কবরাস্থানে দাফন হয়। হুমায়ুন আজাদের কথা তো নতুন করে বলার কিছু নাই। তার পরিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে হুমায়ুন আজাদ কে সমাধিস্থ করতে চেয়েছিল। কত বড় ধৃষ্টতা চিন্তা করে দেখুন ! বদরুদ্দীন উমরের জানাজার নামায দেখুন কিভাবে মসজিদের ভিতরে আদায় হচ্ছে

দেশের আলেমদের আসলে কিছু বিষয়ে এক হতে হবে। সারা দেশের সব মসজিদের ইমামদের একটা চেইন অব কমান্ডে আনতে হবে। কোন নাস্তিক মারা গেলে চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে কোন ইমাম তাদের জানাজা পরাতে পারবে না! কোন নাস্তিকের জানাজা আমাদের সমাজে হবে না। এই ব্যাপারে দেশের সব আলেম আলিয়া, ক্বওমী, সুন্নী, হানাফি, সালাফি সবাই কে এই ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে উনারা কোন নাস্তিক, মুরতাদ, সংশয়বাদীদের জানাজা পরাবে না। নাস্তিকদের লাশ কবরে না, বাঘের পেটেই ভালো মানায়।

শুধু জানাজার নামায না এই নাস্তিকরা সব সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ফ্যাসিবাদের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই নাস্তিকরা এটাই বলে বেড়াচ্ছে যে বাংলাদেশের সব মুসলিমই কোন না কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত। নাস্তিকরা  বিদেশিদের চোখে পুরা বাংলাদেশ কে একটা জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে দেখাতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button