এক নজরে গৌতম বুদ্ধ ও বৈরাগ্যবাদ

গভীর রাতে সিদ্ধার্থ তার স্ত্রী ও পুত্রকে না বলে গৃহত্যাগ করলো। তথাকথিত সিদ্ধিলাভ করার পরও সিদ্ধার্থ আর কোনদিন নিজ স্ত্রী পুত্রের কাছে ফিরে আসলো না। সারাজীবন নিজ স্ত্রী যশোধারা আর পুত্র রাহুলের কোন খোজ খবর না নেওয়া এই গৃহত্যাগী ব্যক্তিটিই এখন হয়ে গেছে বৌদ্ধদের কাছে দেবতূল্য গৌতম বুদ্ধ।
Facebook, Twitter এ বড় বড় সংশয়বাদীদের টাইম লাইনে গৌতম বুদ্ধের ছবি, বাণী দেখা যায়। হ্যাঁ, যেই ব্যক্তি জঙ্গলে চলে গেছে তার ছবি, বাণী দিয়ে আপনারা আপনাদের টাইম লাইন সাজাবেন এটাই তো স্বাভাবিক। যে বনবাসী সে তো আপনাদের কাছে কোন threat না, কারন বনে যে থাকে সে তো আপনাদের ভোগবাদী জীবন যাপনের জন্য কোন হুমকি না। সমাজের ভিতরে থেকে, সমাজকে যে সংস্কার করতে চাইবে পশ্চিমারা তো তাকেই বেশী হুমকি মনে করবে।
কারন সমাজ, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সমাজের ভিতর থেকেই করতে হবে, জঙ্গলে চলে গেলে হবে না, সমাজেই বসবাস করতে হবে। পশ্চিমারা গৃহত্যাগী গৌতম বুদ্ধ কে ভালবেসেছে, আর সমাজ সংসারী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সারা জীবন ঘৃণা করতে শিখেছে। আসলে যে জঙ্গলে চলে যাবে তাকে তো সবাই ভালবাসবেই।
ব্যাপারটা হচ্ছে অনেকটা এরকম- ” গৌতম বুদ্ধ আপনি জঙ্গলে চলে যান, আমরা আপনার ব্যাপার টা দেখব, আমরা আপনাকে মহামানব বানাব। ”
আর মুসলমানদের নবী মুহাম্মদ! তার জন্য শুধু সারাজীবন ঘৃণা; কারণ মুহাম্মদ আমাদের ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। মুহাম্মদ আমাদের পুজিবাদী system কে নিষিদ্ধ বলে ঘোষনা করেছে।
ধর্মগুরু আবার সংসারী হয় কিভাবে ? ধর্মগুরুরা থাকবে জঙ্গলে আর একান্ত যদি লোকালয়ে থাকতেই হয় তাহলে আবদ্ধ জায়গায় আবদ্ধ ঘরে থাকবে। গীর্জার বাইরে যে লোকালয় আছে সেটা সে ভুলে যাবে। ধর্মগুরুর চোখ থাকবে সে দেখবে না, তার কান থাকবে সে শুনবে না। ধর্মগুরুর চোখ, কান, মুখ শুধু গীর্জা মঠের ভিতরেই সচল থাকবে। বাইরে আমরা কি করি, কিভাবে মানুষের অর্থ সম্পদ পুঞ্জীভূত করি তা নিয়ে ধর্মগুরুর মস্তিষ্কের নিউরন কোন কাজ করতে পারবে না। অন্যান্য ধর্মের সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি নিষ্ক্রিয়তাকেই তাদের ধর্ম গুলোকে পশ্চিমাদের চোখে নিরাপদ করে তুলেছে। আর ইসলাম ধর্মের ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের উপর হস্তক্ষেপই ইসলাম ধর্ম পশ্চিমাদের চোখে শূলের মত বিদ্ধ হয়।
গভীর রাতে নিজের স্ত্রী, পুত্র কে না বলে জঙ্গলে চলে গিয়ে; বোধিবৃক্ষের নীচে তথাকথিত সিদ্ধি লাভ করার পর দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এরপর গৌতম বুদ্ধ একবার তাঁর জন্মভূমি কপিলাবস্তুতে ফিরে আসেন। গৌতম বুদ্ধের স্ত্রী যশোধরা তার দীর্ঘ চুল বিছিয়ে স্বামীকে অভ্যর্থনা জানালেও গৌতম বুদ্ধ যশোধরার এই চুল মাড়িয়ে নিজ গৃহ ত্যাগ করেন।
একটু চিন্তা করে দেখুন যশোধরা কতটা ভালবাসা নিয়ে তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করেছে দীর্ঘদিন ধরে কিন্তু গৌতম বুদ্ধ যশোধরার ভালবাসা কে পায়ে মারিয়ে সারা জীবনের জন্য নিজ স্ত্রীকে পরিত্যাগ করল। আর এই গৌতম বুদ্ধই কিনা এখন হয়ে গেছে নাস্তিকদের কাছে আদর্শ ! তবে “মাছের বড় মাথাটা আমার” এই নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গৌতম বুদ্ধ নিজ পুত্র রাহুলকে তার মঠে নিয়ে যায়।
কই কোনদিন ও তো দেখলাম না কোন নাস্তিককে গৌতম বুদ্ধের এই সারজীবন স্ত্রী পুত্রের অবহেলা নিয়ে কিছু লিখতে। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূলের বৈবাহিক জীবন নিয়ে অনলাইনে হাজার হাজার ব্লগ লেখা হয়েছে। নাস্তিকদের কাছে কেউ সংসার জীবন করলেই দোষ কিন্তু সারা জীবন কেউ নিজ স্ত্রী পুত্রের কোন খোজ খবর না নিলে এটা নাস্তিকদের কাছে কোন দোষের না। একটু চিন্তা করে দেখুন এরকম কোন ঘটনা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে হত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা জীবন উনার কোন এক স্ত্রীর কোন খোজ খবর নেন নি তাইলে নাস্তিকরা সেই ঘটনাটা উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কি পরিমানই না আক্রমণ করত।
সারাজীবন নিজ স্ত্রী পুত্রের কোন খোজ-খবর না নিয়েও মুক্তমনাদের চোখে গৌতম বুদ্ধ একজন মহামানব, সংশয়বাদীরা গৌতম বুদ্ধের কোন দোষ খুঁজে পায় না, আর আমাদের নবীজি ঘর সংসার করেছেন, স্ত্রী কন্যার হক্ব আদান করেছেন এরপরও আল্লাহর রাসুলের বৈবাহিক জীবন নিয়ে শত শত ব্লগ লেখা হয়েছে। মুক্তমনাদের চোখে কেউ সংসার জীবন করলেই দোষ, কিন্তু সারাজীবন নিজ স্ত্রী-পুত্রের কোন খোজখবর না নেওয়া দোষের কিছু না। আমি এইজন্যই তাদের কে মুক্তমনা বলি না, আমি তাদের কে মিথ্যামনা বলি।
মুসলমানদের নবী মুহাম্মদ কে Defend করার জন্য খৃষ্টানরা লাখ লাখ website খুললেও পুরো নেট ঘুরেও গৌতম বুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে একটা ভাল ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায় না। তো বুঝেন পশ্চিমারা এদেরকে কতটুকু Threat মনে করে।
মানুষের মাঝে জন্ম নিয়ে মানুষের কল্যাণে জন্য কাজ করে মানুষের ভালবাসা পেয়েই মহামানব হওয়া যায় আর মানুষের মাঝে জন্ম নিয়ে মানুষ থেকে পালিয়ে জঙ্গলে গিয়ে থাকাকে বৈরাগ্যবাদ বলে। এই হল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর গৌতম বুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য ! মূলত গৌতম বুদ্ধ জীবন থেকে পালাতে চেয়েছেন। উনি জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখামুখি হতে চান নাই।
বৌদ্ধরা শূকর থেকে শুরু করে হাতি ঘোড়া গাধার মাংস সব খায়। খালি তারা তা নিজেরা জবাই করে না। গৌতম বুদ্ধ নিজেই শূকরের মাংস খেয়েছেন। বৌদ্ধরা কখনোই নিরামিষভোজী ছিল না।
পুনশচঃ আমি এই লেখাটা পশ্চিমাদের কে উল্লেখ করে লিখেছি। তাই বর্ণনা শৈলীর সাথে মিল রেখে অনেক ক্ষেত্রে নবীজির নামের শেষে দুরুদ শরীফ লিখি নাই। কারণ পশ্চিমারা নবীজির নামের পরে দুরুদ শরীফ বলে না। কিন্তু আপনারা নবিজীর নামের পরে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়ে ফেলবেন।
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে দিয়েই যে তিনি দীনের কাজ নেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমাদের ফারাবী ভাই। তাইতো তিনি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে,সংকটময় মুহুর্তেও দীনের কাজ করেই যাচ্ছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন আমিন❤️❤️❤️
আলহামদুলিল্লাহ ♥️ যে আপনি আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন…
ছোটবেলায় বড় ভাইদের মুখে ব্লগার ফারাবী নামটি অনেক শুনেছি, কিন্তু তখন উনার ব্লগ বা লেখালেখি পড়ার সুযোগ হয়নি। আজ যখন উনার ব্লগগুলো পড়লাম, তখন অদ্ভুত এক শূন্যতা আর আফসোস কাজ করছে। উনার চিন্তাধারা এবং লেখার গভীরতা দেখে বারবার মনে হচ্ছে, আমরা আসলে উনাকে এখনো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। এমন একজন মেধাবী মানুষকে চিনে নিতে আমাদের বড্ড দেরি হয়ে গেল।
সালাম নিবেন ভাই, আপনার লেখার এই গভীরতা আর ক্ষুরধার এক দশক আগে বাংগু চুশিল দের গালে কেমন চপেটাঘাত করেছে আর কেন চক্ষুশূল হয়েছেন, আজকে বুঝলাম। ভালো থাকবেন, আর দোয়া রইলো।