অন্যান্য ধর্ম

নাসা কর্তৃক স্বীকৃত যে রাম সেতু বলতে কিছু নাই

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অনেক দিন ধরেই নেটে প্রচারনা চালাচ্ছে যে NASA নাকি বলেছে যে রামসেতু নাকি সত্য ! ফটোশপ করা বিভিন্ন আজগুবী ছবি যে গুলিতে দেখা যায় যে মাঝ সমুদ্রে পাথর ডুবে না এই ছবি গুলি হিন্দুরা নাসার নামে চালিয়ে দিয়ে বলছে যে খোদ নাসাই নাকি বলছে যে রাম সেতু নাকি সত্য। কিন্তু আপনারা কি জানেন সেই ২০০৭ সালেই খোদ নাসা থেকেই বলা হয়েছে যে হিন্দুরা রাম সেতুর ব্যাপারে যে ছবি গুলি অনলাইনে শেয়ার করে সেগুলি কোনটাই নাসার কোন অভিযাত্রী তুলে নাই। শুধু তাই নয় যাকে হিন্দুরা রামসেতু বলছে সেটাকে স্পষ্ট ভাবে নাসা একটা ৩০ কিলোমিটারের পক প্রনালী বলেছে যেই পক প্রনালীর মাঝে অসংখ্য প্রবাল শৈবাল বালু ও ডুবো পাহাড় রয়েছে।

আর এরকম প্রাকৃতিক পক প্রনালী এই পৃথিবীতে বহু আছে। আর নাসার এই খবরটা ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times সেই ২০০৭ সালে উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আপনারা এই লিংকে যেয়ে রামসেতুর ব্যাপারে নাসার বক্তব্যটা পড়তে পারবেন।

এই পৃথিবীর ভূপৃষ্ট কত গুলা আনুভূমিক প্লেট এর সমন্বয়ে গঠিত । পৃথিবীর সৃষ্টির সময় সকল মহাদেশ একত্রে এবং জলরাশি একত্রে ছিল। পর্বতমালা সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর ভূ-গর্ভের সৃষ্ট আন্দোলনের ফলে। ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বহু শক্ত প্লেটে বিভক্ত এবং এর ঘনত্ব হচ্ছে ১০০কিলোমিটার। প্লেটগুলো আংশিক গলিত অঞ্চলে ভাসমান,যাকে Aesthenosphere বলে। আল কোরআনের সূরা নাযিয়াত -৩২, এবং সূরা গাশিয়ার ১৯নং আয়াতেও অনুরূপ বক্তব্য এসেছে।
পাহাড়ের গঠন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের বর্ণনা ভূতত্ত্ব বিদ্যার সাথে পুরো মিলে যায়। হিন্দুরা যেটা কে রাম সেতু বলছে ওটা ভুকম্পন এবং প্লেটের কম্পনের এর ফলে উৎপন্ন just একটা অগভীর সমুদ্র ও ডুবো পাহাড় । ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের (১৭৫৫-১৭৬৩) নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে। আর রাম সেতুর মত এরকম প্রাকৃতিক পক প্রনালী এই পৃথিবীতে বহু আছে।

 

আপনারা অনেকেই হিন্দু পেজগুলি দেখবার সময় একটি বিষয় খেয়াল করে থাকবেন যে তারা কিছু পাথরের ছবি এবং ভিডিও দেখিয়ে বলছে যে সেই পাথরগুলি রামসেতুর পাথর, তাই সেই পাথরগুলি আধ্যাত্মিক গুনের কারনে নাকি পানিতে ভেসে থাকতে পারে!!! পাথরগুলির কোনটার ভর ১০ কেজির কম হবে না অনেক ক্ষেত্রে। সে যাই হোক আপনারা ভিডিও দেখে অবাক হবেন,ভাববেন আরে একি এত ভারি পাথর পানিতে ভাসছে কি করে? কিন্তু আপনারা আসল ব্যাপারটা অনেকেই বোঝার চেষ্টা করেন না। এই পাথরগুলির BODY তে অনেকগুলি অদৃশ্য ছিদ্র আছে যা খালি চোখে দেখা যায় না।

আপনারা ক্লাস 9 এ যারা পদার্থবিজ্ঞান বইটা পড়েছেন তাদের জানার কথা যে কোন বস্তু যখন পানিতে ডোবানো হয় তখন সেটা কিছু পরিমাণ পানি অপসারন করে, এখন যদি অপসারিত পানির ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয় তবে বস্তুটি ডুবে যাবে,আর যদি অপসারিত পানির ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশী হয় তবে বস্তুটি পানিতে ডুববে না,ভেসে থাকতে পারবে। (আর্কিমিডিস এর বিখ্যাত আবিস্কার)।

জাহাজ আসলে এই নীতিটা মেনেই সমুদ্রে/নদীতে নামানো হয়। জাহাজের ভেতরটা একারণে ফাপা রাখা হয় যাতে  সে তার ওজনের চেয়ে বেশী পরিমাণ ওজনের পানি অপসারন করতে পারে। হিমশৈল এর ক্ষেত্রেও আপনারা দেখবেন যে তার বডির কিছু অংশ পানির নিচে ডুবে রয়েছে,আর কিছুটা অংশ পানির উপরে ভেসে রয়েছে।

এই তথাকথিত রামসেতুর পাথরের ব্যাপারটাও সেরকম।রামসেতুর “ভাসমান” পাথর নিয়ে প্রচলিত জোচ্চুরির আসল রহস্য Youtube থেকে জেনে নিন

 

পাথরগুলির গায়ে অনিয়মিত ভাবে প্রচুর অদৃশ্য ছিদ্র থাকার কারনে সেই ছিদ্রগুলিতে বাতাস ঢুকতে পারে, এর ফলে এই পাথরগুলি তার ওজনের চেয়ে বেশী ওজনের পানি অপসারন করতে সক্ষম হয়, তাই এই পাথরগুলি পানিতে ভেসে থাকতে পারে। আর আরেকটা কথা বলা দরকার ঠিক একই বৈশিষ্ট্যে সম্পন্ন পাথর পাওয়া গেছে ব্রাজিলে,অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানেও কি তাহলে রাম,লক্ষন,হনুমান,রাবন সবাই মিলে পিকনিক করতে গিয়েছিল??? এরকম ধোঁকাবাজি হিন্দু পুরোহিতরা নিচু জাতের হিন্দুদের সাথে হাজার হাজার বছর আগে থেকে করে আসছে এবং এখনো করছে।

আপনারা জানেন যে,সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরের মুর্তি ভেঙ্গেছিলেন,মন্দির লুট করেছিলেন।  এসব কথা আপনাকে হিন্দুরা ফলাও করে বলবে। কিন্তু তারা আপনাকে যে বিশেষ কথাটি বলবে না সেটা হচ্ছে সোমনাথ মন্দিরে দেবমুর্তিকে যে কক্ষে রাখা হত সেই কক্ষের দেয়ালের সবটূকুতে চুম্বক লাগানো ছিল। সেই চুম্বকের আকর্ষনের কারনে দেবমুর্তিটি শূন্যে ভেসে থাকতে পারতো। কিন্তু সুলতান মাহমুদ পরীক্ষা করার জন্যে যখন চারপাশের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার আদেশ দিলেন তখন লোহার বানানো দেবমুর্তিটি চুম্বকের আকর্ষনের অভাবে মাটিতে পরে যেতে বাধ্য হয়। ফলে সেখানেই দেবমুর্তির পঞ্ছত্বপ্রাপ্তি ঘটে। এটাই হচ্ছে সুলতান মাহমুদ কর্তৃক সোমনাথ মন্দির ধ্বংসের ইতিহাস যা আপনারা ১০০০ বছর ধরে খন্ডিতভাবে শুনে আসছেন। সুলতান মাহমুদ কর্তৃক দেয়ালের চুম্বক সরিয়ে নেবার কারনে দেবমুর্তি “নিহত” হবার এই ঘটনাটা আপনারা প্রবির ঘোষ রচিত “অলৌকিক নয় লৌকিক” বইতে পাবেন।

২০০৭ সালে তামিলনাড়ুরর মুখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি তামিলনাড়ু ও শ্রীলংকার মধ্যে অবস্থিত সমুদ্রগর্ভের একটি প্রবাল প্রাচীর খনন করে জাহাজ চালানোর জন্য সামুদ্রিক রাস্তা হ্রাস ও সুগম করার জন্য টেন্ডার আহবান করলে বিজেপিরা চিল্লাচিল্লী শুরু করে যে এতে নাকি তথাকথিত রাম সেতুর ক্ষতি হবে। এই রাম সেতু নিয়ে বিতর্কটা তখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টেও উঠেছিল। সেই সময় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতামত জানতে চায়। The Archaeological Survey of India (AIS) ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় যে রাম লক্ষন হল একটা মিথ। রাম লক্ষন বলতে যে কেউ এই ভারতে ছিল এই ব্যাপারে কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নত্ত্বাত্তিক নিদর্শন নেই। আর তথাকথিত রামসেতুর ব্যাপারে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সুপ্রীম কোর্ট কে বলে- “it’s a natural formation made of shoals and sand bars. অর্থাৎ রাম সেতু হল কিছু মাছের ঝাঁক ও বালির সমষ্টি ছাড়া আর কিছু না। হ্যা আর এই খবরটাও ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছিল সেই ২০০৭ সালে।  আপনারা এই লিংকে যেয়ে রাম লক্ষনের ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের বক্তব্যটা পড়তে পারবেন। 

 

আর মজার ব্যাপার হল সুপ্রীম কোর্টে রাম লক্ষনের ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের এই রিপোর্ট টি পেশ করার পর তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি উনার সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেন- ” সূর্য চন্দ্র যেরকম সত্য ঠিক তেমনি সত্য হল এই পৃথিবীতে রাম লক্ষন রাবন বলতে কিছু ছিল না। ”

One Comment

  1. খুবি‌ সুন্দর তথ্যবহুল আলোচনা
    ধন্যবাদ আপনাকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button