হীনযান, মহাযান, সহযান, ব্জ্রযান, কালচক্রযান

প্রাচীন ভারতে শূন্য থালা হাতে অনেক ভিক্ষুক পথে পথে ঘুরত। তারা নিজেরা মুখে খাবার চাইত না। গৃহস্থের দিকে থালা বাড়িয়ে দিত। যশোধরার স্বামী গৌতম বুদ্ধ ঠিক এই কাজটিই করলেন। গৃহস্থের দিকে থালা বাড়িয়ে দিতেন। গৌতম বুদ্ধ থালা হাতে মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরতে লাগলেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ভোরবেলা শূন্য থালা হাতে বের হতেন। সারাদিন ভিক্ষা করে যা পাওয়া যেত তাই রান্না হত। সবাই মিলে তাই খেতেন।

গৌতম বুদ্ধের জীবিত থাকা অবস্থাতেই বৌদ্ধরা ২ ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একটা হল হীনযান আরেকটা হল মহাযান। সংঘের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কে কিভাবে চলবে এইসব নিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভিতরে মাঝে মাঝে কথা কাটাকাটি হত। গৌতম বুদ্ধের জীবিত থাকা অবস্থাতেই কয়েকটা সংঘ সৃষ্টি হয়েছিল। তো গৌতম বুদ্ধ মাঝে মাঝে সংঘে যেয়ে এই বিবাদ গুলো মিটানোর চেষ্টা করতেন। এর মাঝে হীনযানীরা ছিল খুব কট্টরপন্থী। আর মহাযানীরা ছিল উদারপন্থী। তো গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর ১০ মিনিটের মাথায় হীনযানীরা মহাযানীদের কে লাত্থি মেরে সংঘ থেকে বের করে দেয়। এরপর মহাযানীরা আলাদা সংঘ খুলে।
একসময় এই বাংলাতেই বৌদ্ধদের মাঝে ২ রকমের বিহার ছিল। ভারত বাংলাদেশ বার্মা শ্রীলংকার বৌদ্ধরা হল হীনযান আর দূরপ্রাচ্যের বৌদ্ধরা হল মহাযান। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর ৬০০ বছর পর অর্থ্যাৎ ১ম শতাব্দীর দিকে হিন্দু কাপালিক তান্ত্রিকদের দেখাদেখি ভিক্ষুরাও তান্ত্রিক সাধনা শুরু করে। ভিক্ষুরা ভাবা শুরু করে মন্ত্রশক্তি প্রয়োগ করেও নির্বান লাভ করা যায়। থেরবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঠিক কালী সাধকদের মত মদ খাওয়া শুরু করে, শশ্মান ঘাটে যেয়ে মৃত মানুষের বুকের উপর উঠে তান্ত্রিক সাধনা শুরু করে। সেই সময় হিন্দু বৌদ্ধ সবাই তান্ত্রিক সাধনা করত। এরপর ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজী যখন বাংলা বিহার জয় করেন তখন উনি এইসব তান্ত্রিক সাধকদের কে ঝেটিয়ে বাংলা থেকে বিদায় করেন। এরপর এই শয়তান গুলি সব নেপালে আশ্রয় নেয়। নেপালের বৌদ্ধরা তারাদেবী থেকে শুরু করে বোধিসত্ত্ব সহ বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে। হিন্দুদের মত বৌদ্ধদেরও বিভিন্ন দেবদেবী আছে। বৌদ্ধ ধর্মে স্বর্গ নরক প্রেতলোক বজ্রযান যোগাচার সব আছে। তাই বৌদ্ধ ধর্ম কখনোই কোন নিরীশ্বরবাদী ধর্ম নয়।

বৌদ্ধদের অনেক দেবদেবীকেই হিন্দুরা হাইজ্যাক করছে। বৌদ্ধদের তারা দেবীই পরে হিন্দুদের মা দূর্গা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মেও যে দেবদেবী আছে, তান্ত্রিক সাধনা আছে এটা মনে হয় বেশীর ভাগ বাঙ্গালীই জানে না।
বৌদ্ধদের নির্বান লাভ জিনিসটা ভুয়া। কামনা বাসনা থেকে মুক্তি পাওয়াকে গৌতম বুদ্ধ নির্বান লাভ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু একটা মানুষ কি চাইলেই নিজের কাম প্রবৃত্তিকে পুরাপুরি নিবৃত্ত করতে পারে ? জৈবিক চাহিদাকে তো অস্বীকার করার কিছু নাই। হয় আপনার স্ত্রী নয় আপনার Girl Friend অথবা বেশ্যালয়ে যেয়ে আপনার কামপ্রবৃত্তিকে মিটাতে হবে। বার্মায় অনেক রোহিঙ্গা মেয়ে জোরপূর্বক প্যাগোডায় সেবাদাসী হিসাবে কাজ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বহু ভিক্ষুর অনেক নারী কেলেংকারী আছে। কি সুন্দর শীল কিন্তু ২ দিন পর শুনা যায় ঐ ভান্তে এক চাকমা মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে।
আর সর্বজীবে দয়া করা কি সম্ভব ? আমাদের শরীরে যে জীবাণু রুপী ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস গুলি আছে তাদের কে যদি আমরা বাড়তে দেই তাহলে তো আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত। কলেরা, ভাইরাস, টাইফয়েড, সিফিলিসের ভয়ংকর জীবানুরাও তো জীব। তাদের প্রতি দয়া করতে হলে পেনিসিলিন ব্যবহার করা যাবে না। তাও কি সম্ভব ?
গৌতম বুদ্ধের কথা মত তাহলে তো বাজার থেকে সব এন্টিবায়োটিক ঔষুধ উঠিয়ে নিতে হবে।
বৌদ্ধরা শুকর থেকে শুরু করে হাতি ঘোড়া গাধার মাংস সব খায়। খালি তারা তা নিজেরা জবাই করে না। বৌদ্ধরা কখনোই নিরামিষভোজী ছিল না।
ঈশ্বর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় বলে গৌতম বুদ্ধ ঈশ্বর কে অস্বীকার করেছেন। নির্বাণ লাভও তো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। গৌতম বুদ্ধের যুক্তি আমি গৌতম বুদ্ধের কাছেই ফিরিয়ে দিচ্ছি। যেই নির্বাণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় সেই নির্বাণও আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

বৌদ্ধরা পুনজন্ম মতবাদে বিশ্বাস করে। গৌতম বুদ্ধ নিজেই নাকি ৫৪৯ বার পশু পাখি লতা পাতা পোকা মাকড় হয়ে জন্ম নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধার্থ হিসাবে এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছিলেন, যেটাকে জাতকের কাহিনী বলা হয়। তো এই পুনজন্মের Concept টা তো হিন্দুরাও বিশ্বাস করে। তাই বুঝাই যাচ্ছে গৌতম বুদ্ধ হিন্দুদের কাছ থেকে এই পুনজন্ম Concept টা পেয়েছেন। আর গৌতম বুদ্ধের জন্মের অনেক আগে থেকেই চার্বাকরা নাস্তিকতা প্রচার করত। তাই ধরে নেওয়া যায় সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নাই এই ধারনাটা গৌতম বুদ্ধ চার্বাকদের কাছ থেকেই ধার করেছেন। তাই বুঝাই যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম হল আধা হিন্দু ধর্ম ও আধা চার্বাক দর্শনের সমষ্টি। খালি নির্বান লাভ থিওরীটা গৌতম বুদ্ধের নিজের দেয়া। তাও পরমাত্মায় বিলীন হয়ে যাবার কথাটা ইসকনেরাও বলে। আর বৌদ্ধ ধর্মেও হিন্দুদের মত অসুর দৈত্য দানব দেবদেবীর শক্তিতে বিশ্বাসের কথা আছে। হিন্দুরা গৌতম বুদ্ধকে তাদের নবম অবতার বলে। ঐ ঘুরায় ফিরায়া সব কটাই প্যাগান ধর্মের অনুসারী।