বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সংশয়বাদ ও ইসলাম ; এখন আপনি কোনটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন ?


বিজ্ঞানের কাঁধে বন্দুক রেখে দীর্ঘদিন ধরে সংশয়বাদীরা মুসলমানদের ঈমান ধ্বংসের কাজ করে যাচ্ছে। এর কয়েকটি উদাহরণ হল-
১. নাস্তিকদের খোঁড়া যুক্তি হল, আমরা মুসলমানরা যেহেতু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর ঈমান এনেছি এবং পরকালে বিশ্বাসী, তাই আমরা মুসলমানরা নাকি বিজ্ঞান মনস্ক নই!
এর জবাবে আমি বলি, আচ্ছা বিজ্ঞানের সাথে নাস্তিক্যবাদের সম্পর্কটা কি তা কি কেউ আমাকে একটু বলবেন? বিজ্ঞানের কোনো বইপুস্তকে কি লেখা আছে যে, সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নেই?
সৃষ্টিকর্তা আছে কি না- এটা তো কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় নয়। এখানে অনেকেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে যে, এই মহাবিশ্বে সৃষ্টিকর্তা আছে কি না, এটা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। না, এটা দর্শন শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়। একমাত্র Philosophy দর্শন শাস্ত্রই এই মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে কি না সেটা নিয়ে আলোচনা করবে। বিজ্ঞানকে এখানে টেনে আনাটা নিরেট মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
মূলতঃ সায়েন্টিফিক মেথড সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলেই কেউ এ ধরণের উদ্ভট বক্তব্য দিতে পারে যে, সৃষ্টিকর্তা ও পরকালে বিশ্বাসী হওয়াটা বিজ্ঞান বিরুদ্ধ (?)
পৃথিবীর কোনো ল্যাবেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে কোন গবেষণা করা হচ্ছে না এবং হবেও না। কেননা, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্ব আছে কি না এ বিষয়টি বিজ্ঞানের আওতাভূক্তই নয়। কাজেই সায়েন্টিফিক মেথড অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাওয়াটা নিতান্তই বিজ্ঞান বিরুদ্ধ দাবী।
আর তথাকথিত বাংলার শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ, যিনি বাংলাদেশের নাস্তিকদের গুরু- তিনিও সারাদিন খালি চেঁচামেচি করতেন যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্ব নাকি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়!
অথচ Physics (পদার্থবিজ্ঞান) ও Chemistry (রসায়ন)-এর কোন বইতে লেখা আছে যে, ‘এই মহাবিশ্বের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই’- এমন কথা অদ্যাবধি কোন নির্বোধ নাস্তিকও আমাদেরকে বলতে পারেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই নাস্তিকরা প্রতিদিন ত্যানা প্যাঁচায় যে, আমরা মুসলমানরা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি বলে আমরা মুসলমানরা নাকি বিজ্ঞান মনস্ক নই!
আচ্ছা আপনারা কি জানেন, সংশয়বাদীরা প্রতিনিয়ত কি পরিমাণ অন্ধ বিশ্বাসে নিমজ্জিত থাকে?

তারা যে বিবর্তনবাদকে ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের ন্যায় বিশ্বাস করে সেটা কি আপনারা জানেন ? কোটি কোটি বছর আগের একটি কাল্পনিক ব্যাকটেরিয়া থেকে র্যান্ডম মিউটেশন ও ন্যাচারাল সিলেকশন এর মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে পুরো প্রাণীজগতের বিবর্তনে বিশ্বাস করতে হলে কী পরিমাণ অন্ধ বিশ্বাসী হতে হবে, আপনারা একটু হিসেব কষে দেখুন!
২. সংশয়বাদীরা বিশ্বাস করে যে, ধাপে ধাপে বিবর্তনবাদের মাধ্যমে এই প্রাণীজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। যেটাকে তারা ‘ডারউইনের বিবর্তনবাদ’ বলে চালিয়ে দেয়।
আমি বলি, একটু ভেবে দেখুন তো , আমাদের শরীরে একটিও ডানহাতি ‘অ্যামাইনো অ্যাসিড’ নেই। যদি আপনা আপনিই এই প্রাণীজগৎ সৃষ্টি হতো, তাহলে তো অবশ্যই আমাদের শরীরে অন্ততঃ একটি হলেও ডানহাতি ‘অ্যামাইনো অ্যাসিড’ থাকতো।
প্রোটিনের অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো ডানহাতিও হতে পারে আবার বাঁ-হাতিও হতে পারে। তবে সবচেয়ে অবাক করা জিনিস হল এই যে, মানবদেহের প্রোটিন গঠনে শুধুমাত্র বাঁ-হাতি অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো যুক্ত থাকে। মানবদেহের প্রোটিন কাঠামোর মাঝে যদি একটিও ডানহাতি অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রবেশ ঘটে, তবে এই প্রোটিন কাঠামোটি তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে একটি অকার্যকর পিন্ডে পরিণত হবে।
এখন আপনি যদি কোন সংশয়বাদীকে জিজ্ঞেস করেন যে, কেন আমাদের শরীরের প্রোটিন কাঠামো গঠনে ডানহাতি অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো থাকলো না? তখন সংশয়বাদীরা এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারবে না। কারণ প্রাণের উৎপত্তি যদি দুর্ঘটনাই হতো, তাহলে তো অবশ্যই মানবদেহের প্রোটিন গঠনে অন্ততঃ একটি হলেও ডানহাতি অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রবেশ ঘটতো।
আশাকরি এবার আপনারা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন যে, এই নাস্তিকতা হচ্ছে একটি চরম অন্ধবিশ্বাস। কারণ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা মানে পুরো মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু, প্রতিটি ক্ষণ এবং প্রতিটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য সংশয়বাদীদেরকে প্রতি মুহূর্তে চান্স এবং Probability (সম্ভাবনা)-এর ন্যায় অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিতে হয়।
ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ থিওরী’ মতে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে ‘র্যাণ্ডম মিউটেশন ও ন্যাচারাল সিলেকশন’ নামক মন্ত্রের মাধ্যমে এই পৃথিবীর পুরো প্রাণীজগৎ ও উদ্ভিদজগতের উৎপত্তি হয়েছে -এটা বিশ্বাস করতে গিয়ে কী পরিমাণ চান্স আর অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিতে হচ্ছে সংশয়বাদীদেরকে, তা কি আপনারা কখনো ভেবে দেখেছেন?
ডারউইনের বিবর্তনবাদ এটি কোন ফ্যাক্ট নয়; বরং এটি হচ্ছে কেবলমাত্র একটি থিওরী। আর এই ডারউইনের বিবর্তনবাদ থিওরীকেই সংশয়বাদীরা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে মুসলমানদেরকে অপমান করার অপচেষ্টা করে থাকে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ডারউইনের বিবর্তনবাদ থিওরী যে একটি আজগুবি তত্ত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়, তা আর কোন লুকোচুরির বিষয় নয়।
কোটি কোটি বছর আগের একটি (কাল্পনিক) ব্যাকটেরিয়া, যেই ব্যাকটেরিয়াকে আজ পর্যন্ত কোন সংশয়বাদী চোখেও দেখেনি। সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে গোটা প্রাণীজগতের উৎপত্তিতে যারা বিশ্বাস করে -সেই তথাকথিত মুক্তমনারা নাকি আসছে মুসলমানদের পরকালের বিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে !
৩. নাস্তিকরা আরো বলে, আমরা আল্লাহকে দেখতে পাই না বলে আমরা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাসী নই !
এর জবাবে আমি বলি, আচ্ছা সংশয়বাদীরা তো বিবর্তনবাদকেও কখনো চোখে দেখেনি, তাহলে তারা বিবর্তনবাদকে কেন বিশ্বাস করে?
আপনারা কখনো কি দেখেছেন এক প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়ে আরেক প্রাণীর উত্পত্তি ঘটতে?
একটি বস্তুর অস্তিত্বকে যদি প্রমাণ করা না যায়, তবে একজন সংশয়বাদী সেটাকে রিজেক্ট করে দেয়। সে হিসেবে তো বিবর্তনবাদকেও সংশয়বাদীদের রিজেক্ট করার কথা! কারণ একজন সংশয়বাদী কখনও বিবর্তনবাদকে প্রমাণ করে দেখায়নি এবং চোখেও দেখেনি!
কিন্তু বিবর্তনবাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সংশয়বাদীদের বিশ্বাসে ঠিক উল্টোটাই ঘটে! তবে কি আমরা ধরে নেবো যে, সংশয়বাদীরা বিবর্তনের প্রতি প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস এনেছে?
সংশয়বাদীদের কথা হল, এই পৃথিবীতে মানুষের উদ্ভব হঠাৎ, নিয়ন্ত্রণহীন (random) এবং অপরিকল্পিতভাবে (spontaneous) হয়েছে। তার মানে একটি জড় মৌলিক অথবা যৌগিক কণা প্রাণলাভ করতে পারে এবং কোন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পর্যায়ক্রমে মানুষের মত জটিল সৃষ্টিতে পরিণত হতে পারে। এককথায় কোন জড়কণা উপযুক্ত পরিবেশ আর যথেষ্ট সময় পেলে সেটি মানুষে পরিণত হওয়া সম্ভব– এটিই হচ্ছে বস্তুবাদী ধ্যান ধারণা।
বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ নামের এই জটিল আর উন্নত প্রাণীটি অজৈব তথা প্রাণহীন জড় বস্তু থেকে হঠাৎ একটি সরল এককোষী জীব হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে এবং কোটি কোটি বছর সময়ের ব্যবধানে সেই এককোষী জীবটিই উন্নত বুদ্ধিমত্তার ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানব জাতিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ জড় -> দৈবাৎ -> জীবন লাভ -> একটি কোষ -> বিবর্তন -> মানুষ। কিন্তু এই জড়কণার দৈবাৎ প্রাণলাভ, কিছুতেই প্রমাণিত নয়।
আসুন দেখি, একটি জড়কণা থেকে প্রাণে রূপান্তর হয়ে আসতে হলে কী কী ধাপ অতিক্রম করতে হবে-
১. প্রথমে কিছু সরল জড়কণাকে স্বতঃস্ফূর্ত (Spontaneous) ও নিয়ন্ত্রণহীন (Random) রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে জটিল জৈব কণা বা নিউক্লিক এসিড মলিকিউলে পরিণত হতে হবে।
২. জটিল জৈবকণা বা নিউক্লিক এসিড মলিকিউলগুলোর সাথে নানা ধরণের এনজাইম ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান (Nutrient Molecules) একটি কোষ ঝিল্লির (Membraned Cells) মধ্যে আবদ্ধ হতে হবে।
৩. কোষের নিউক্লিক এসিড মলিকিউলগুলো (ডিএনএ) সেল্ফ রেপ্লিকেশন এবং সেল ডিভিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন কোষ উৎপাদন করতে থাকবে।
এই ভাবে সরল জড়কণা উপযুক্ত পরিবেশে সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত জটিল জীবকোষে পরিণত হতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বর্তমান পৃথিবীতে প্রাণ ধারণ আর প্রাণ সৃষ্টির যথেষ্ট উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও এভাবে কোন জড়কণা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রক্রিয়ায় জীবকোষে পরিণত হয় না। এমনকি পরীক্ষাগারে পৃথিবীর আদি পরিবেশ কৃত্তিমভাবে তৈরী করেও কোন জড় কণাকে জীবন্ত সরল কোষে পরিণত করা যায়নি।
স্টিফেন হকিং এর একটি থিওরী মতে, ভিনগ্রহ থেকে একটি উল্কাপিন্ড এসে এই পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে। লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরত্ব থেকে একটি উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

এসব আজগুবী কিচ্ছা-কাহিনী ঠাকুরমার ঝুলিকেও হার মানায়। সত্যি কথা বলতে আমরা মুসলমানরা ঈমান এনেছি মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর আর সংশয়বাদীরা ঈমান আনে Random Mutation (নিয়ন্ত্রণহীন পরিবর্তন), Natural Selection (প্রাকৃতিক নির্বাচন) এবং Probability (সম্ভাবনা)-এর উপর।
সেই তুলনায় মুসলমানদের ঈমান, আখিরাতের উপর বিশ্বাস অবশ্যই যৌক্তিক।
I truly love your website.. Great colors & theme.
Did you make this site yourself? Please reply back as I’m hoping to create my own site and want to know where you got this from or just what the theme is called.
Cheers! https://tichmarifa.blogspot.com/2025/08/blog-post.html
design অন্যরা করেছে, কিন্তু চিন্তা আমার। আমি ডেভেলপারকে টাকা দিয়ে এইসব করিয়েছি। কিন্তু লেখাগুলো আমার ভাই। ব্লগের ডোনেট অপশনে যেয়ে ডোনেট করার অনুরোধ করছি।