অন্যান্য ধর্ম

সন্ত্রাসবাদী হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস রাম,লক্ষন কিংবা রাবন ঠাকুরমার ঝুলি ছাড়া আর কিছুই নয়

 

হিন্দু ধর্ম মতে সময় বা যুগ ৪ টা ধাপে বিভক্ত। সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, দ্বাপর যুগ, কলি যুগ। হিন্দুরা বিশ্বাস করে রাম লক্ষন যখন এই পৃথিবীতে এসেছিলেন তখন ছিল ত্রেতা যুগ। হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস মতে ত্রেতা যুগের সময় টা ছিল আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে। তাইলে রাম লক্ষন উনারা আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে এই পৃথিবীতে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু ভারতবর্ষে এই মানব সভ্যতার বয়স কখনই ১ লাখ বছরের বেশী হতে পারে না। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দ্বারা আজ থেকে ৪০ হাজার পূর্বের কোন মানব সভ্যতার চিহ্ন ভারতে খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাহলে কিভাবে ১২ লাখ বছর আগে অযোধ্যা শ্রীলংকায় মানব সভ্যতা থাকতে পারে ? তাইলে আপনারা ঠিকই বুঝতে পারছেন যে হিন্দুরা যে বিশ্বাস করে আজ থেকে ১২ লাখ বছর আগে লঙ্কায় লঙ্কাকান্ড ঘটেছিল এগুলি বাল্মিকীর লেখা কিছু কল্প কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।

 

হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হল বেদ। বেদের ৪ টা ভাগ। ঋগবেদ, অথর্ববেদ, যজুর্জবেদ, সামবেদ। বেদে স্পষ্ট বলা আছে ঈশ্বর হলেন একজনই এবং ঈশ্বরের কোন প্রতিমূর্তি নেই। কিন্তু তাও আপনারা দেখবেন যে হিন্দুরা অনেক দেব দেবীর পুজা করে। আচ্ছা ঈশ্বর যদি একজনই হয়ে তবে হিন্দুরা কেন এক ঈশ্বরের উপাসনা বাদ দিয়ে অসংখ্য দেব দেবীর উপাসনা করে ? তখন হিন্দুরা আপনাকে বলবে যে এইসব দেব দেবী হচ্ছে ঈশ্বরের শক্তির বিভিন্ন রূপ। আচ্ছা তাইলে এইসব শক্তির কি করে মনুষ্য সত্তা থাকে এবং শক্তি রুপী দেব দেবীদের লিঙ্গভেদ হয় কিভাবে? আপনারাই বলেন শক্তির কি কখনো লিঙ্গভেদ অর্থ্যাৎ স্ত্রী-পুরুষ হতে পারে ? শক্তিরুপী এইসব হিন্দুদের দেব দেবীদের মাঝে আবার পরিবার আছে, এবং নিজেদের মাঝে লড়াইও হয়। আবার শক্তির সামান্য একটি অংশের আরাধনা করার বদলে কেন হিন্দুরা পুর্ন ঈশ্বরের আরাধনা করে না ? প্রকৃতপক্ষে এই হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের কোন যৌক্তিক ধারনাই নেই। আজ পর্যন্ত কোন পন্ডিতই হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের কোন যৌক্তিক ধারনাই দিতে পারে নাই। যদিও ইসলাম ধর্মের একেশ্বরবাদের চাপে আজ হিন্দু পন্ডিতরাও বলা শুরু করেছে ঈশ্বর আসলে একজনই।

 

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রায় ৩৩ বছর পূর্তি হবে। হিন্দুদের কথা হল আমাদের বাবরী মসজিদের জায়গায় একসময় নাকি হিন্দুদের রাম মন্দির ছিল। বাদশাহ বাবর নাকি রাম মন্দির ভেঙ্গে বাবরী মসজিদ তৈরি করেছিলেন। আচ্ছা আসুন এখন আমরা দেখি রাম লক্ষন বলতে কি আসলেই এই পৃথিবীতে কিছু ছিল কিনা এবং অযোধ্যার বাবরী মসজিদের ঐ জায়গায় কি আসলেই রাম মন্দির ছিল।

২০০৭ সালে তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের মুখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি তামিলনাড়ু ও শ্রীলংকার মধ্যে অবস্থিত সমুদ্রগর্ভের একটি প্রবাল প্রাচীর খনন করে জাহাজ চালানোর জন্য রাস্তা হ্রাস ও সুগম করার জন্য টেন্ডার আহবান করলে বিজেপিরা চিল্লাচিল্লী শুরু করে যে এতে নাকি তথাকথিত রাম সেতুর ক্ষতি হবে। এই রাম সেতু নিয়ে বিতর্কটা তখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টেও উঠেছিল। সেই সময় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতামত জানতে চায়। The Archaeological Survey of India (AIS) ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় যে রাম লক্ষন হল একটা মিথ। রাম লক্ষন বলতে যে কেউ এই ভারতে ছিল এই ব্যাপারে কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নত্ত্বাত্তিক নিদর্শন নেই। আর তথাকথিত রামসেতুর ব্যাপারে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সুপ্রীম কোর্ট কে বলে- “it’s a natural formation made of shoals and sand bars. অর্থাৎ রাম সেতু হল কিছু মাছের ঝাঁক ও বালির সমষ্টি ছাড়া আর কিছু না। হ্যা আর এই খবরটাও ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছিল সেই ২০০৭ সালে। আপনারা এই লিংকে যেয়ে রাম লক্ষনের ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের বক্তব্যটা পড়তে পারবেন।

 

আর মজার ব্যাপার হল সুপ্রীম কোর্টে রাম সেতুর ব্যাপারে ভারতের প্রত্ন তত্ত্ব অধিদপ্তরের এই রিপোর্ট টি পেশ করার পর তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধি উনার সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেন- “সূর্য চন্দ্র যেরকম সত্য ঠিক তেমনি সত্য হল এই পৃথিবীতে রাম লক্ষন রাবন বলতে কিছু ছিল না। “

আপনারা কি জানেন সেই ২০০৭ সালেই খোদ নাসা থেকেই বলা হয়েছে যে মালাউন হিন্দুরা রাম সেতুর ব্যাপারে যে ছবি গুলি অনলাইনে শেয়ার করে সেগুলি কোনটাই নাসার কোন অভিযাত্রী তুলে নাই। শুধু তাই নয় যাকে হিন্দুরা রামসেতু বলছে সেটাকে স্পষ্ট ভাবে নাসা একটা ৩০ কিলোমিটারের পক প্রনালী বলেছে যেই পক প্রনালীর মাঝে অসংখ্য প্রবাল শৈবাল বালু ও ডুবো পাহাড় রয়েছে। আর এরকম প্রাকৃতিক পক প্রনালী এই পৃথিবীতে বহুত আছে। আর নাসার এই খবরটা ভারতের একদম প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা The Hindustan Times সেই ২০০৭ সালে উনাদের পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আপনারা এই লিংকে এ যেয়ে রামসেতুর ব্যাপারে নাসার বক্তব্যটা পড়তে পারবেন।

 

শুধুমাত্র তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এস.করুণানিধির কথাই নয় সারা পৃথিবীর প্রত্নতত্ত্ববিদরা গবেষনা করেও শ্রীলঙ্কায় রাবন নামক কোন রাক্ষসের সন্ধান পাননি। রামের পিতা রাজা দশরথ ও রামের মা রানী কোশলয়া নামে অযোধ্যায় কোন রাজা রানী ছিল কিনা এরকম কোন তথ্যও আজ পর্যন্ত কোন Archaeologist সারা অযোধ্যার মাটি খনন করে পায় নি। আর পাবেও বা কিভাবে ? রামায়ন মহাভারত এগুলি হল বাল্মিকী কৃত্তিবাস ওঝার লেখা কিচ্ছা কাহিনী। এগুলির কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নাই। হিন্দুদের দেবদেবীগুলির কারো ১০ টা হাত পা, কারো হাতির মত শূড়, কারো ৪ টা মুখ। আর সেই রামায়ন উল্লেখিত রাবনের নাকি যুদ্ধের সময় রাবন নাকি তার ১০টা মাথা বের করে যুদ্ধ করে।আচ্ছা আপনারাই বলেন এই পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো এরকম কোন জনগোষ্ঠী ছিল যে যাদের হাত পা মাথা ছিল অনেক গুলি। কিন্তু আপনারা দেখেন এই হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে বহু হাত পা চোখ কান মুখ গলা বিশিষ্ঠ দূর্গা কালী লক্ষী রামায়ন রাবন এরা নাকি এই পৃথিবীতে এক সময় রাজত্ব করেছে এবং নিজেদের ভিতরে মারামারিও করত। রামায়নের কয়েকটা সংস্করন পুরা ভারতে পড়ানো হয়। রামায়নের অনেক সংস্করনে বলা আছে যে রাম ও সীতা নাকি আপন ভাই বোন ছিল। আর অযোধ্যার যে জায়গায় বাবরী মসজিদ সেই জায়গায় ১১ শতক পর্যন্ত কখনো মানব সভ্যতা শুরুই হয়নি। ১১ শতকের পর বাবরী মসজিদের আশপাশের এলাকায় মানব সভ্যতা শুরু হয়। ১২ লাখ বছর আগের ত্রেতা যুগ তো দুরের কথা এমনকি গুপ্ত যুগেও অযোধ্যায় উল্লেখ করার মত কোন জনগোষ্ঠী ছিল না।

ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৭৫ সালে ‘রামায়ণ বর্ণিত স্থানগুলোর প্রত্নতত্ত্বিক নির্ণয়’ নামক এক প্রজেক্টের কাজ শুরু করে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক ডাইরেক্টর বি বি লাল ছিলেন এই উদ্যোগের সূচনাকারী। বিশেষজ্ঞরা বাল্মীকির রামায়ণে উল্লিখিত পাঁচটি শহরে অনুসন্ধান চালান। বাবরি মসজিদের পেছনেই ১১ মিটার গভীর গরিখা খনন করা হয়। অনুসন্ধানের ফলাফল সংবলিত তিন খণ্ড জার্নাল প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক নীলাগুন মুখোপাধ্যায় (সানডে মেইল, ২০ নভেম্বর ১৯৮৮) এবং পঙ্কজ পাচাউরি (ইন্ডিয়া টুডে, ১৫ জানুয়ারি ১৯৮৯) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানের ফলাফলের সারাংশ প্রকাশ করেন। নিবন্ধ দু’টির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, উল্লিখিত স্থানটি রামের জন্মস্থান নয়। অথচ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য হচ্ছে, বাবরের গভর্নর মির বাকি অযোধ্যায় একটি মন্দির ধ্বংস করে ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাদের ধারণা, এই মন্দিরটিকে গুপ্ত যুগের সম্রাট বিক্রমাদিত্য খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, গুপ্ত যুগে সেখানে কোনো বসতি ছিল না। অযোধ্যা ও তার আশপাশে খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত কোন জনবসতি ছিল না। পঙ্কজ পাচাউরির রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, ‘যে অযোধ্যায় যে ১৪টি স্থানে খননকাজ চালানো হয়েছে সেখানে রামের কোন মূর্তি পাওয়া যায়নি।’ বিতর্কিত স্থানটিতে খননকাজের ফলাফল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে (Journal of Indian Archaeology, 1976-77)। ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় ৫ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে বিশিষ্ট লেখক গৌতম রায় ‘মন্দির না মসজিদ’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন, লঙ্কাকাণ্ড এ যুগে আর লঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয় না। সে জন্য রামভক্তরা বেছে নিয়েছে খোদ অযোধ্যাকেই। রামায়ণে যে অযোধ্যার বর্ণনা আছে, ‘বাস্তবের অযোধ্যায় ১২ লাখ বছর আগের ত্রেতা যুগ কেন, কোনো যুগেই সে ধরনের কোন নগর সভ্যতার অস্তিত্ব অযোধ্যায় ছিল না। এমনকি আজো নেই। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ পুঙ্খানুপুঙ্খ খননকার্য চালিয়ে দেখেছে, এমনকি গুপ্ত যুগেও এই অযোধ্যায় মনুষ্য বসতির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বস্তুত গোটা অযোধ্যা বা তার চার পাশে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতক পর্যন্ত মানুষের পা-ই পড়েনি। বাবরি মসজিদের পেছনে ও বাবরী মসজিদের চারপাশে রাম মন্দির বা তার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া তো দূরের কথা, বস্তুত পুরা অযোধ্যাজুড়ে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি করেও রামের কোনো মূর্তিরও হদিস মেলেনি। যদিও অযোধ্যা রাজ্যে বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের প্রসারের অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে কিন্তু পুরা অযোধ্যাতেও রামের কোন মূর্তি পাওয়া যায় নি। শুধু গৌতম রায়ই নয়, বহু হিন্দু লেখক অযোধ্যার বাবরি মসজিদটি যে রাম জন্মভূমির স্থান নয় এবং আগেও এখানে কোন মন্দির ছিল না, তা স্বীকার করেছেন। আর যেই রাম সেতু নিয়ে এত চিল্লাচিল্লী এটা একটা সামুদ্রিক প্রবাল রাস্তা ছাড়া আর কিছুই না।

 

Instagram এইরকম শত শত প্রবাল টাইপ পাথরের গায়ে ছিদ্র থাকার কারনে পানিতে ভেসে থাকতে পারে। এই ভিডিওটা দেখুন 

3 Comments

  1. খুব সুন্দর বিশ্লেষণ। সবার পড়া উচিত। এগুলো কেচ্ছা-কাহিনি নিয়ে উগ্রবাদীরা চিল্লা-চিল্লি করে। 😁

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button