যেই সৃষ্টিকর্তা ধর্ষিতার আর্তনাদে সাড়া দেয় না……..


আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে যাওয়ার সময় দেখলেন একদল বিড়াল নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করছে আপনার কি তখন বিড়ালের কামড়াকামড়ি দেখে কোন ফিলিংস আসবে ? না আসবে না, এর কারন হলো মানুষ নিজ প্রজাতি ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির সুখ দুঃখের প্রতি কোন আগ্রহ বোধ করেনা। রাস্তাঘাটের কুকুর বিড়াল এইসব প্রজাতির মারামারি আমাদের মাঝে কোন কাতরতা তৈরি করে না।
সৃষ্টিগতভাবে মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত করলেও মানুষের সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কোন তুলনাই চলে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বড়ত্ব মহত্ব ও আজমত এর সাথে মানুষ, জ্বীন, ফেরেশতাদের কোন তুলনাই চলে না। হাদিসে কুদসীতে বলা আছে – ” দুনিয়া যদি আল্লাহর কাছে মশার পাখার সমতুল্যের মূল্য থাকতো তাহলে কাফেরদেরকে আল্লাহপাক এক ঢোক পানিও খেতে দিতেন না। ”
একটা হাদিসে কুদসীতে বলা আছে-
‘’ হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, মানুষ ও জিন সবাই তোমাদের মধ্যেকার সবচেয়ে বেশি পরহেজগার (আল্লাহভীরু) একজন ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, তাহলেও তা আমার রাজত্বে এক কণা পরিমাণও বাড়াতে পারবে না।”
“হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, মানুষ ও জিন সবাই তোমাদের মধ্যেকার সবচেয়ে বেশি পাপী একজন ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, তাহলেও তা আমার রাজত্বে এক কণা পরিমাণও কমাতে পারবে না।”
এখন মূল আলোচনায় আসি, আমাদের সময়ে সংশয়বাদীরা প্রায়ই একটা উক্তি করত যে – “যেই সৃষ্টিকর্তা ধর্ষিতার আর্তনাদ সাড়া দেয় না সেই সৃষ্টিকর্তা আমার কোন প্রয়োজন নাই।” আমি মুক্তমনাদের এইসব উক্তির ব্যাপারে সেই সময় একটা কথাই বলতাম – “আপনারা তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে মানুষের মত একটি জাতিসত্ত্বা মনে করছেন। মানুষ যেই রকম ভাবে কোন কিছু দেখে অস্থির হয়ে যায় আপনারাও ভাবছেন আল্লাহ হয়তো কোন সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখে অস্থির হয়ে যাবে।” এখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যদি কোন সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখে মানুষের মত অস্থির হয়ে যান তাহলে তো আর উনি আল্লাহ হবেন না, আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা উনি উনার মত, মানুষের মতো উনাকে চিন্তা করাটা, উনাকে ভাবাটাই হচ্ছে চরম ১টা ভুল, আর এই ভুলটাই আস্তিক নাস্তিক সবাই করে থাকে।
লেখার প্রথমেই বলেছিলাম মানুষ নিজ প্রজাতি ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির সুখ-দুঃখ দেখে কখনো তাড়িত হয় না, মানুষের সামনে সারা দুনিয়ার কুকুর বিড়াল বাঘ সিংহ মারামারি করে মরে গেলেও মানুষ ফিরেও তাকাবে না আর যেখানে মানুষের সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কোন তুলনায় চলে না সেখানে মানুষ আল্লাহকে নিজের মত করে ভাবা টাই হচ্ছে একটি চরম মুর্খতা। সারা পৃথিবীর সব মানুষ নিজেদের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে মারা গেলেও এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার স্থিরতার মাঝে বিন্দুমাত্র চীড় ধরাতে পারবে না। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানবজাতিকে ভালবাসেন। মানুষের নিজেদের ভিতরে হানাহানি, মারামারি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা কে ব্যাথিত করে।
কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা সম্পর্কিত সব কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কাজ শুধু একটিই বাকী থাকবে সেটি হচ্ছে হিসাব- নিকাশ, ইনসাফ সহকারে ফয়সালের প্রদান। দুনিয়ার জীবন প্রতিদান দেওয়ার ক্ষেত্র না আর নেকীর প্রতিদান পার্থিব জগৎ সহ্য করতে পারবে না। আবার মানুষের পাপের শাস্তি দুনিয়ার জীবনে দেওয়াটা আল্লাহ সুবহানুওয়া তায়ালার রীতি নয়।
” যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড় দিতেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না। [সূরা নাহল: ৬১]
সূরা আর রহমান এর ৩১ নং আয়াত অনুসারে ” হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়! আমি শীঘ্রই তোমাদের হিসাব কিতাবের জন্য আত্মনিয়োগ করিব। ” [ সূরা আররহমান, আয়াত নং: ৩১ ] এই আয়াত অনুসারে মানবজাতির প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকল হিসাব-নিকাশ, আগ্রহতাবোধ কাল বারযাখ জগতের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখে দিয়েছেন।
[এরকম আরো তাত্ত্বিক আলোচনা আপনারা আমার সদ্য প্রকাশিত শাফিউর রহমান ফারাবী রচনা সমগ্র বইতে পাবেন]
