ইসলাম বৈরিতা

দাস প্রথা ; নির্মমতা এবং ইসলাম। মানবতা কি বলে ?

সেই সময়ে ইসলাম কেন দাস প্রথাকে নিষিদ্ধ করে নি ?

একটি প্রশ্ন নাস্তিকরা প্রায়ই করে মুসলমানদের কে বিব্রত করে, ইসলাম ধর্মে কেন দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করলো না ? আচ্ছা ইসলাম ধর্ম তো সুদপ্রথাকে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু সারা পৃথিবীতেই তো সুদপ্রথা জাঁকিয়ে রাজত্ব করছে। ইসলাম ধর্মে মদ, নিষিদ্ধ পল্লী ও ব্যভিচার সবই হারাম ; কিন্তু সারা পৃথিবীতেই তো প্রকাশ্যে বা গোপনে এই সব অপকর্ম ব্যাপক ভাবে চলছে। ব্যাপারটা তা হলে এরকম দাঁড়াল ইসলাম ধর্মে কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা মানে এই নয় যে সারা পৃথিবী তা নিষিদ্ধ হিসাবে মেনে নিবে।

 

তো সেই হিসাবে বলা যায়, আল্লাহর রাসুল ১৪০০ বছর পূর্বে  দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করলেও ইউরোপের সামন্ত রাজারা, পারসিক কায়সাররা, ভারতের মহারাজারা তা কখনোই মেনে নিত না।

এই কথায় তো আমরা সবাই একমত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পৃথিবীতে আগমনের বহু পূর্বে থেকেই দাসপ্রথা আমাদের সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। ৪০০০ বছর পূর্বের প্রাচীন সভ্যতা ব্যাবিলন ও সুমেরীয় আইনেও slave code লিখিত আকারে পাওয়া যায়।

তো এখন যদি খুব সহজভাবে বলি, কেন সেই সময়ে ইসলাম দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেনি, তা হলো— যেমন ধরুন, আল-কোরআনে ওহী নাজিল করে বলা হলো, আজ থেকে দাস-দাসী হিসেবে কাউকে ব্যবহার করা যাবে না। সেই যুগে সাধারণত যুদ্ধে পরাজিত সৈনিকদেরকেই দাস হিসেবে ব্যবহার করা হত। এমনও দেখা গেছে, বিজিত জাতি পরাজিত জাতির প্রায় সবাইকেই দাসে রূপান্তর করেছে। রোমান সভ্যতার চার ভাগের এক ভাগই ছিল দাস।

 

তো কাফেররা যখন শুনবে, কোরআনের আয়াত অনুসারে দাস-দাসী প্রথা নিষিদ্ধ, তখন তারা ভাববে — ” আমরা যদি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিতও হই, তাহলেও তো মুসলমানরা কোরআনের আয়াত অনুসারে আমাদেরকে আর দাস হিসেবে বন্দী করতে পারবে না। এইখানে উল্লেখ্য, বদর যুদ্ধে মক্কার কাফেররা পরাজিত হওয়ার পর সাহাবীরা ৭০ জন কাফেরকে দাস হিসাবে বন্দী করেছিল। যদিও পরবর্তীতে আল্লাহর রাসুলের ইচ্ছায় এই ৭০ জন কাফেরকে নামমাত্র মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

 

১০ বছরের মাদানী যুগে ১০-১২টির মতো যুদ্ধ হয়েছিল। যদি সেইসময়ে ইসলামে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হত, তাহলে মক্কার কাফেররা আর খায়বারের ইহুদীরা মদিনাকে প্রায় ২০০ বারের মতো আক্রমণ করত। কারণ কাফেররা ভালো করেই জানত, যেহেতু ইসলামে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ, তাই আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হারলেও কোরআনের আয়াত অনুসারে মুসলমানরা আমাদেরকে কখনোই দাস হিসেবে বন্দী করতে পারবে না। কাফেররা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলে মুসলমানরা তখন তাকে দাস বানাবে ; এই ভয়ই মদিনাকে অনেক যুদ্ধ থেকে হেফাজত করেছে। সোজা বাংলায় কাফেরদের থেকে মুসলমানদেরকে নিরাপদে রাখার জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই সময়ে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেননি। এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার একটি হেকমত ছাড়া কিছুই নয়।

যেই প্রথা আমরা শুরু করে নি বরং যেই প্রথাকে মূলোৎপাটন করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি কিন্তু সেই আদি প্রথার জন্য আমাদের কে সারাদিন গালিগালাজ খেতে হয়। এখন যেইরকম জেনেভা চুক্তি হয়েছে যুদ্ধবন্দী সৈনিককে চাইলেও কেউ হত্যা করতে পারে না কিন্তু আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে সেইরকম কিছুই ছিল না। থাকলে সেই সময়েই ইসলাম আইন করে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করত।

 

ল্যাটিন আমেরিকা আবিষ্কারের পরেই এই পৃথিবীতে দাসব্যবসা মহীরুহের আকার ধারণ করে। বন্য পশু পাখি শিকারের মত করে ইউরোপের সাদা চামড়ার সভ্যতার দাবিদাররা, আফ্রিকার কালো মানুষদেরকে ধরে ধরে বন্দী করে দাস বানিয়ে ল্যাটিন আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়। কালোদের রক্ত ও ঘামেই আজকের আমেরিকার বিশাল বিশাল অট্টালিকা গুলো দাঁড়িয়ে আছে। খ্রিষ্টানরা নিজেদের দাসব্যবসা বিশ্ববাসীর কাছে লুকিয়ে রাখার জন্যই সারাদিন ইসলামের দাস-দাসী সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েলগুলো আলোচনা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button